সুপ্রিমকোর্টে হট্টগোল।-ফাইল ছবিসুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আদালতের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং নিরাপত্তারক্ষীর উপর হামলার অভিযোগে দুই আইন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলার বাসিন্দা ২৪ বছরের প্রবাল প্রতাপ সিং, যিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের আইন ছাত্র। অন্যজন ২৩ বছরের চন্দর ভান, রায়বরেলির বাসিন্দা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আইন পড়ুয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘প্রবাল প্রতাপ ও অন্য বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য’ মামলার বিশেষ অনুমতি আবেদন (Special Leave Petition) সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ নম্বর এজলাসে এই ঘটনা ঘটে। প্রবাল প্রতাপ নিজেই মামলার আবেদনকারী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ, শুনানি চলাকালীন তিনি অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেন, আদালতের ভিতরে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং হট্টগোল শুরু করেন। এতে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্তকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীর উপর শারীরিক হামলা চালান এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (আইএইচবিএএস)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা যায়, তাঁদের কারওই তাৎক্ষণিক মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
তদন্তের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে আপত্তিকর বিষয়বস্তু-সম্বলিত কিছু প্রচারপত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের এক নিরাপত্তারক্ষীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিলক মার্গ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দুই অভিযুক্তকে দু'দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।