অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার খালি তত্ত্বকথার মধ্যে আটকে থাকতে নারাজ।রবিবার সংসদে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আর তাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন; এই বাজেটের মূল লক্ষ্যই হল সংস্কারের গতি ধরে রাখা। অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যেও ভারতের ভিত আরও মজবুত করতে হবে বলে জানালেন নির্মলা। এদিন তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে 'রিফর্ম', 'রেজিলিয়েন্স' এবং 'মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ'-এর কথা। সরকারের দাবি, কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব সংস্কারই এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা জানান, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকার শতাধিক পরিকাঠামোগত ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত করেছে। তাঁর কথায়, 'রিফর্ম এক্সপ্রেস নিজের গন্তব্যের দিকে ছুটতে শুরু করেছে। আমাদের কর্তব্য পূরণের মধ্য দিয়েই সেই গতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।' সরকারের মতে, এই সংস্কারের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছতে শুরু করেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার খালি তত্ত্বকথার মধ্যে আটকে থাকতে নারাজ। বরং সংস্কারের মাধ্যমে এগনোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঠিক কী কী সংস্কারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে?
১. দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানো। সরকারের দাবি, এর ফলে গৃহস্থের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কৃষি ক্ষেত্রের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসেও এই সংস্কারগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
২. বাজেটে ‘যুব শক্তি’-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন নির্মলা।
৩. ইনক্লুসিভ উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষও যাতে অর্থনীতির মূল স্রোতে সামিল হওয়ার সুযোগ পান, তাতে নজর রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নে জোর দিয়েছেন নির্মলা।
৫. বাজেটে MSME সেক্টরের উন্নয়নে আলাদা তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পুরনো শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত করা, শহরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে এর পিছনে প্রায় ১২.২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধন ব্যয় করা হবে বলে জানান নির্মলা।
৬. উৎপাদন খাতে জোর দিতে সাতটি সেক্টর স্কেল আপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এসেছে। আলাদা করে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে 'বায়ো ফার্মা শক্তি'-তে। ভারতকে বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরে এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০, ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিরল খনিজের করিডর গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
৭. টেক্সটাইল, খাদি, ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন থেকে শুরু করে জাহাজ মেরামতির পরিকাঠামো; বাজেটে এই সব ক্ষেত্রেই সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই পদক্ষেপগুলির ফলে ভারতের অর্থনীতি আরও আত্মনির্ভর হিসাবে গড়ে উঠবে। এগুলিই ২০২৬ এর বাজেটের মূল বার্তা বলে উল্লেখ করেন নির্মলা।