দিল্লি AIIMS মত পরিকাঠামো কবে মিলবে দেশের বাকি ২২ টিতেও?নয়ডা ফিল্ম সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র ‘HealthWealth Summit 2026’-এর উদ্বোধনকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন যে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষ সুস্থ থাকলেই উন্নত ভারত গড়া সম্ভব।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির নিয়ে নাড্ডা
দেশের প্রতিটি কোণে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত 'আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির' (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র) যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে, ৩০ বছরের বেশি বয়সী ৪৪ কোটি মানুষকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জন্য স্ক্রিনিং করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করেছেন। 'U-Win' পোর্টালের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল করা হয়েছে। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার এখন ৭০-৭১% থেকে বেড়ে ৯০% হয়েছে।
চিকিৎসা শিক্ষায় ব্যাপক উন্নতি
দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা বলেন, দেশে AIIMS-এর সংখ্যা এক থেকে বেড়ে ২৩ হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৩৮৭ থেকে বেড়ে ১,০৬৩ হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর আসন সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ানো হচ্ছে এবং দেশের মানুষ যাতে সেরা চিকিৎসক পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।
AIIMS নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নতুন AIIMS গড়ে উঠতে ৯-১০ বছর সময় লাগে, প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসায় বিলম্ব প্রসঙ্গে এমন প্রতিক্রিয়াই দেন নাড্ডা। নতুন AIIMS-এ দিল্লির মতো স্পেশালাইজেশন সুবিধার অভাব এবং শিশুদের ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির জন্য মাসব্যাপী অপেক্ষার বিষয়ে জবাবে নাড্ডা বলেন, একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও দক্ষতা গড়ে উঠতে নয় থেকে দশ বছর সময় লাগে। নাড্ডা বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। ব্যয় বাড়াতে কোনও দ্বিধা নেই।
বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য সুরক্ষা: আয়ুষ্মান ভারত
গরীবদের জীবনরেখায় পরিণত হওয়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আজ ৬১ কোটি মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাচ্ছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণরা তাঁদের আর্থিক অবস্থা বা জাতি নির্বিশেষে আমৃত্যু ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বিমা পাচ্ছেন। ল্যানসেটের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে, আজ ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগী রোগ নির্ণয়ের এক মাসের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করেন।
সস্তা ওষুধ এবং 'অমৃত' ফার্মেসি
সাধারণ মানুষের নিজস্ব খরচ, যা একসময় ৬৩% ছিল, তা এখন কমে প্রায় ৪৩-৪৪%-এ দাঁড়িয়েছে। জন ঔষধি কেন্দ্র এবং 'অমৃত' ফার্মেসিগুলির (যেখানে ওষুধ ও ইমপ্লান্ট ৫০% ছাড়ে পাওয়া যায়) মাধ্যমে মানুষ কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করছেন।
তরুণদের প্রতি বিশেষ উপদেশ: 'নিজের শরীরের ওপর অত্যাচার করো না!'
তাঁর বক্তব্যের শেষে, জেপি নাড্ডা তরুণদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কঠোর উপদেশ দেন। তিনি হেসে বললেন, 'সমস্যা তৈরি না করার মধ্যেই সমাধান নিহিত! নিজের শরীরকে জানুন, এর অপব্যবহার করবেন না। তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনধারা গ্রহণ করতে হবে, যাতে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে হাসপাতালে যেতে না হয়।'