গ্রাফিক্সশনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মতলার ধর্না কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের ‘বঙ্গভঙ্গ’-এর অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আগে যেমন বিহারকে ভাগ করা হয়েছে, তেমনই এখন বাংলাকেও ভাগ করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। ধর্না মঞ্চ থেকেই তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'একবার বাংলাকে হাত দিয়ে দেখাক বিজেপি, বাংলার মানুষ তার জবাব দেবে।'
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের রাজনীতিতে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যেই রাজ্যকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর কথায়, বাংলা ও বিহারের কিছু অঞ্চল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির যে আলোচনা চলছে, তার পেছনে রয়েছে ভোট কাটার অভিসন্ধি। এই প্রসঙ্গেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন, বাংলার ঐক্য নষ্ট করার যে কোনও চেষ্টা রাজ্যের মানুষ মেনে নেবে না।
জল্পনা চলছে বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষানগঞ্জ, কাটিহার ও বাংলার মালদা ও উত্তর দিনাজপুরকে নিয়ে তৈরি হবে নবম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে বিহারের কয়েকটি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ে সম্ভাব্য একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির ধারণা। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর এলাকাকে ঘিরে এই আলোচনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আবারও সামনে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগের একটি ঘোষণাও। স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন “ডেমোগ্রাফি মিশন” গঠনের কথা বলেছিলেন। সেই ঘোষণার লক্ষ্য ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তবে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং একটি ডেমোগ্রাফি কমিশনের ধারণা একেবারেই আলাদা। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা ইউনিয়ন টেরিটরি হল এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় এবং সাধারণত দেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসক বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর তা পরিচালনা করেন। অন্যদিকে ডেমোগ্রাফি কমিশন মূলত একটি গবেষণা বা নীতিনির্ধারণী সংস্থা, যার কাজ জনসংখ্যার গঠন, অভিবাসন প্রবণতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্ক সামনে এসেছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই এখানে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সীমান্ত এলাকায় উন্নত প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ‘বঙ্গভঙ্গ’ প্রসঙ্গ আবারও রাজ্যের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই ইস্যু যে রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়।