রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের বড় দাবিরাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চায় ভারত। তবে অর্ধেক অধিকার নিয়ে সেই সদস্যপদ নিতে নারাজ নয়াদিল্লি। ভারতের স্পষ্ট দাবি, স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হলে ভেটো ক্ষমতাও দিতে হবে। বলে রাখি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স, এই ৫ দেশের হাতে ভেটোক্ষমতা রয়েছে। ভারতের নেই। এই বৈষম্য মেনে নিতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। স্পষ্ট বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিষদে দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্য হয়ে থাকতে চায় না তারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, ভেটো ক্ষমতা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? আর ভারতের এই দাবির পথে বাধাই বা কোথায়?
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স স্থায়ী সদস্য। তাদের হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। অর্থাৎ কোনও প্রস্তাব আটকে দেওয়ার বিশেষ অধিকার। নিরাপত্তা পরিষদে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ করাতে অন্তত ৯টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ৫ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে কোনও একটি দেশও প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তা আটকে যায়। এই কারণেই শুধু স্থায়ী সদস্যপদ নয়, ভেটো ক্ষমতাও চায় ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি, নতুন স্থায়ী সদস্যদের হাতে এই অধিকার না থাকলে নিরাপত্তা পরিষদে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না।
কেন ভেটো ক্ষমতা চাইছে ভারত?
ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা শুধু অধিকার নয়, বড় দায়িত্বও। তাই এই ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে। গত ২৬ অক্টোবর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৩১ বার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রায় ২০০টি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে এই ক্ষমতা। অধিকাংশ ভেটো প্রয়োগ বা ভেটো দেওয়ার হুমকি এসেছে ৫ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে তিনটি দেশের তরফে।
আরও একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেছে ভারত। অনেক সময় আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটি ছাড়াও কোনও সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়া সম্ভব। নিরাপত্তা পরিষদে কয়েকটি বিবৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির রীতি রয়েছে। ফলে কোনও একটি দেশের আপত্তিতেই গোটা প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। ভারতের মতে, এটা পরোক্ষ ভেটো ক্ষমতার সমস্যা।
ভারতের দাবি
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে দু'টি আলাদা শ্রেণি থাকা উচিত নয়। কয়েকটি স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা থাকবে, অথচ অন্যদের হাতে থাকবে না, এমন ব্যবস্থা মেনে নিতে নারাজ নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, এতে বৈষম্য থেকেই যাবে। সংস্কারের পর যে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হবে, সেখানে সমস্ত স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার থাকা উচিত। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও লক্ষ্য স্থির করার দাবি জানিয়েছেন হরিশ পার্বথানেনি।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইতিহাস
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। সেই সময় বিশ্বের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য আজকের তুলনায় অনেকটাই আলাদা ছিল। ভারতের বক্তব্য, বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদে আজকের বিশ্বের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয় না। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলগুলি পরিষদে যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব পায় না। তাই স্থায়ী ও অস্থায়ী, দুই ধরনের সদস্যসংখ্যাই বাড়ানো হোক। ১৯৬৫ সালের সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। সে বছর নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা পাঁচই রাখা হয়।