ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যাচ্ছেন না অখিলেশ যাদব ভারতের মুখ্য নিবার্চন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে একাট্টা বিরোধী জোট বা ইন্ডিয়া ব্লক। এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কোনও একটি সিদ্ধান্তে আসা হতে পারে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে আপাতত দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অখিলেশ যাদব। আর তাঁর এই আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আসলে SIR প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্কের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে উদ্ধব ঠাকরে, বিরোধী ব্লকের সব শীর্ষ নেতাই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। তাঁরা বসতে চলেছেন বৈঠকে। তবে সেই সভায় উপস্থিত থাকছেন না অখিলেশ যাদব।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অখিলেশ। তিনি জানিয়েছেন, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না। তাঁর পরিবর্তে দলের কোনও নেতা সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আর তাঁর এহেন সিদ্ধান্তেই কংগ্রেসের অন্দরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কেন ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক এড়াচ্ছেন অখিলেশ? সমাজবাদী পার্টির পক্ষে জানান হয়েছে, রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন অখিলেশ। প্রার্থীদের বাছাই নিয়ে তাঁর একাধিক বৈঠক রয়েছে। সেই কারণেই তিনি এই সভায় উপস্থিত থাকবেন না।
যদিও দলের অভ্যন্তরের সূত্র অন্য কথাই বলছে। তাদের দাবি, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে চাইছেন অখিলেশ। কারণ, অখিলেশ যাদব, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীকে একসঙ্গে দেখা গেলেই সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টির মধ্যে চলা টানাপোড়েন আলোচনায় চলে আসতে পারে।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে কতগুলি আসনে সমঝোতা হবে এবং কোন কোন আসন কোন দলের কাছে যাবে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস। তাদের যুক্তি, দেরি হলে কংগ্রেসের বড় ক্ষতি হতে পারে।
তবে এর উল্টো পথে হাঁটতে চাইছেন অখিলেশ। তিনি আপাতত এই ধরনের কোনও আলোচনায় যেতে চাইছেন না। তাই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ইন্ডিয়া ব্লকের-এর বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার নেপথ্যে আপাতত আসন সমঝোতার আলোচনা থেকে দূরে থাকার বিষয়টিও যুক্ত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব আরও জানিয়েছেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। খবর রয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে মল্লিকার্জুন খাড়গের বৈঠক হতে পারে। তবে কংগ্রেসকে নিয়ে অখিলেশকে অত্যন্ত সতর্ক দেখা যাচ্ছে। আপাতত আসন সমঝোতা নিয়ে যে কোনও ধরনের আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছেন তিনি।
অখিলেশের লক্ষ্য, জোট এবং আসন ভাগাভাগির বিষয়টি যতটা সম্ভব পিছিয়ে দেওয়া। কারণ, এখনই যদি আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক শুরু হয়, তাহলে কংগ্রেস আরও চাপ বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে কংগ্রেসও সমাজবাদী পার্টির উপর আসন সমঝোতা নিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে। কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদও আসন ভাগাভাগির বিষয়ে সমাজবাদী পার্টির উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সমাজবাদী পার্টি চায়, কংগ্রেস যাতে প্রথমে তাদের জেতার সম্ভাবনা থাকা আসনগুলির তালিকা দেয়। তারপর বাকি আসন নিয়ে সমঝোতার আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের আশঙ্কা আসন সমঝোতার বিষয়টি যদি আরও এক-দু’মাস ধরে ঝুলে থাকে, তাহলে অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোটের আলোচনা করার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে অখিলেশ যাদব নিজের শর্তে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবেন। কংগ্রেসের হাতে তেমন কিছুই থাকবে না।