মোবাইলের EMI দিতে না পারায় যুবককে অপহরণ করে শরীর থেকে 'রক্ত চুরি'মোবাইল ফোন কিনে তার EMI দিতে না পারায় ভয়ঙ্কর ঘটনা। যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শরীরের রক্ত নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল লখনউতে। ঘটনার শেষ এখানে নয়, রক্ত নেওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখে দিনের পর দিন চাকরের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম নাভাল। প্রায় এক বছর আগে সে একটি দোকান থেকে জিরো ডাউন পেমেন্টে একটি স্যামসংয়ের মোবাইল ফোন কিনেছিল। সেটির দাম ছিল ২১ হাজার ৫০০ টাকা। যার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ২৭৯৯ টাকা। এই টাকা দিতে হত ১২ মাস ধরে।
কিন্তু মোবাইল নেওয়ার পর প্রথম মাস থেকেই কিস্তি দিতে পারেনি নাভাল। পরিবারের দাবি, প্রথম কিস্তি মিস করতেই এক মাসের মাথায় দোকানের লোক এসে মোবাইল নিয়ে চলে যায়। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় আসল ঘটনা। পরিবারের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই দোকানের ২ জন লোক তাঁদের বাড়ি এসে নাভালকে নিয়ে চলে যায়।
নাভালের দাবি, লোকগুলি প্রথমে তাঁকে লখনউয়ের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর শরীর থেকে নেওয়া হয় এক ইউনিট রক্ত। কিন্তু এরপরেও তাঁকে না ছেড়ে, একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে দিয়ে বেশ কয়েকদিন নানা কাজ করানো হয় বলে দাবি করেছে নাভাল।
এরপরে ঘটনা মোড় নিতে শুরু করে ব্ল্যাকমেইলিং-এর দিকে। অভিযুক্তরা নাভালের বড় ভাই রাজকুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইলের কিস্তি বাবদ অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ২,৭৯৯ টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিয়ে নাভালকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে, অভিযুক্তরা আরও ১২,০০০ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। এমনকী টাকা দেওয়া না হলে,নাভালকে খুন করে গোমতী নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি।
উপায়ন্তর না দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হয় নাভালের পরিবার। এরপর পুলিশি হস্তক্ষেপে বাড়ি ফেরে নাভাল। তাঁকে একটি অ্যাপ ক্যাবে করে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবারটির দাবি, সেই গাড়ির ভাড়াও দিতে হয় তাঁদেরকেই।
নাভাল বাড়ি ফিরতেই পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবি করে পরিবার। অভিযোগ, পুলিশের কাছে যাওয়া নিয়ে তাঁদের রীতিমতো হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এরপরেই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তার দ্বারস্থ হয় নাভালের পরিবার। ঘটনায় সোমবার কেস দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।