আয়ুষ মালিক হিন্দু ধর্মে ফিরলেনপ্রেমিকার প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে ইসলাম গ্রহণ। তারপর মোহভঙ্গ। এবার ফের সনাতন ধর্মে ফেরা। এমনই ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশে। সেই রাজ্যে শামলির বাসিন্দা আয়ুষ মালিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক ছিল। সেই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর-বিরোধী আইনের অধীনে তদন্ত শুরু হয়েছিল। আর সেই আয়ুষই এবার হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, বাবা-মায়ের কষ্টের কথা ভেবে এবং নিজের ইচ্ছেতেই তিনি সনাতন ধর্মে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই ধর্মে ফেরার পর তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ভিডিওতে আয়ুষকে হিন্দু ধর্মীয় আচার মেনে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি জানান, এক সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তবে এখন স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভিডিওতে আয়ুষ বলেন, 'আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম। নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেছিলাম। কিন্তু সকলের কষ্ট দেখে এবং পরিবারের কথা মাথায় রেখে নিজের ইচ্ছেতেই আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছি। আমি আমার পরিবারের ভালোবাসা ও সুরক্ষার মধ্যে থাকতে চাই।'
এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে ফের সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছে। এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে চাঁদনি কুরেশি এবং তার বাবা ইসলাম কুরেশি তাঁর পুত্র আয়ুষের ‘ব্রেনওয়াশ’ করেছিলেন। তারা কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তির দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়ুষকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করেছিল। ধর্মান্তরের পর আয়ুষের নাম রাখা হয়েছিল ‘মহাম্মদ আলি’।
এই ঘটনা সামনে আসার পরই শুরু হয় তদন্ত। কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ চাঁদনি কুরেশি এবং তার বাবা ইসলাম কুরেশিকে গ্রেফতার করে। দেবরাজ মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশে বেআইনি ধর্মান্তর নিষেধাজ্ঞা আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়।
এই এফআইআর অনুযায়ী, বি-ফার্মা পাশ আয়ুষ মালিক পরিবারের ওষুধের দোকান চালাতেন। ২০১৮ সালে পায়ে চোট লাগার পর চিকিৎসার জন্য একটি স্থানীয় হাসপাতালে গেলে তাঁর সঙ্গে চাঁদনি কুরেশির পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, সেই সময় থেকেই চাঁদনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে আয়ুষকে ইসলাম ধর্ম নেওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে আয়ুষকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ধর্মান্তর করা হয়। তাঁর নাম পরিবর্তন করে মহাম্মদ আলি রাখা হয়। দিল্লিতেই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবাহের শংসাপত্র উদ্ধার করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ধর্মান্তরের পর আয়ুষ ইসলামের রীতিনীতি মেনে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি দাড়ি রেখেছিলেন। দিনে পাঁচবার নমাজ পড়তেন। তাঁর ড্রেসিংয়েও বদল দেখা গিয়েছিল।
দেবরাজ মালিকের অভিযোগ, এই ধর্মান্তর নেপথ্যে ছিল পারিবারিক সম্পত্তি ও ব্যবসার ওপর লোভ। এটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষেধাজ্ঞা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে। এখনও তদন্ত চলছে। আদালত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।