US Secretary Of State Marco Rubio India Visit: ড্যামেজ কন্ট্রোলে কালই ভারতে মার্কিন বিদেশসচিব, নজরে মোদী-জয়শঙ্কর বৈঠক ও কোয়াডUS Secretary Of State Marco Rubio India Visit: গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা মেরামতের লক্ষ্য নিয়ে এবার আসরে নামলেন খোদ ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিবিদ। চারদিনের এক মেগা সফরে শনিবারই ভারতে পা রাখছেন নতুন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বিদেশসচিব হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। নয়াদিল্লি সূত্রের খবর, এই হাইভোল্টেজ সফরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্তরে দীর্ঘ বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘কোয়াড’ (Quad) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও যোগ দেবেন রুবিও।
কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় প্রথমে কলকাতায় নামবেন মার্কিন বিদেশসচিব। সেখানে একটি স্থানীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিকেলেই দিল্লির বিমান ধরবেন তিনি। রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হওয়ার কথা। ওই দিনই মার্কিন দূতাবাসের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন তিনি। এরপর সোমবার তাজমহল ও জয়পুর ঘুরে মঙ্গলবার সকালে ফের দিল্লি ফিরবেন রুবিও। ওই দিনই দিল্লিতে কোয়াড-এর মেগা বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ভারত সফর নিয়ে শুক্রবারই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মার্কো রুবিও বলেন, “ভারতের সঙ্গে কাজ করার মতো প্রচুর ক্ষেত্র রয়েছে। ওরা আমাদের অত্যন্ত বড় সহযোগী ও অংশীদার। আমরা একসঙ্গে অনেক ভালো কাজ করি, তাই এই সফরটি ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যই দুই দেশের সম্পর্কে মূলত ফাটল ধরায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করেছিলেন, তাঁর মধ্যস্থতার কারণেই ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ এড়ানো গেছে এবং লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ বেঁচেছে। তবে সাউথ ব্লক ট্রাম্পের এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল, আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না, দুই দেশের নিজেদের আলোচনার মাধ্যমেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভারতের ওপর আমেরিকার শাস্তিমূলক ট্যারিফ বা শুল্ক চাপানো, ওয়াশিংটনের নতুন অভিবাসন নীতি এবং এইচওয়ান-বি (H1B) ভিসার ফি বাড়ানোর মতো মার্কিন সিদ্ধান্তও দিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছিল। সম্পর্কের এই বরফ গলাতেই ৫ সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি। এরপর গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের এক ফোনালাপ হয়, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, রুবিও ও জয়শঙ্করের রবিবারের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি ক্ষেত্র, ক্রিটিকাল টেকনোলজি এবং দুই দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংকট এবং তার জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিশদ আলোচনা হবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মার্কো রুবিও-র এই চারদিনের সফরে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরি হবে।