ভারতের বায়ু দূষণ নিয়ে জরুরি অবস্থার দাবি ব্রায়ান জনসনের।সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন কোটিপতি ব্যবসায়ী ও অ্যান্টি-এজিং বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান জনসন। আর এই সফরেই তাঁর কাণ্ড-কারখানা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ভারত সফরে থাকাকালীন জেরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের পডকাস্টে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু 'দূষিত বাতাসের কারণে' মাঝপথেই পডকাস্ট ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
ব্রায়ান জনসন জানান, পডকাস্ট চলাকালীনই তাঁর গলা ও চোখ জ্বালা করতে শুরু করে এবং ত্বকে র্যাশ বেরিয়ে যায়। এক্স (টুইটার)-এ তিনি লেখেন, 'ভারত সফরের সময় আমি এই পডকাস্টটি মাঝপথেই বন্ধ করতে বাধ্য হই। নিখিল কামাত খুবই ভালো হোস্ট ছিলেন। তবে সমস্যাটা ছিল ঘরের বাতাসে। ঘরের মধ্যে ক্রমাগত বাইরের বাতাস ঢুকছিল। ফলে আমি যে এয়ার পিউরিফায়ার নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটিও কাজ করছিল না।'
পডকাস্ট চলাকালীন মুখে মাস্ক পরে ছিলেন জনসন। সেই সময়ই তাঁর চোখ জ্বালা করতে শুরু করে। উল্টো দিকে বসে থাকা নিখিলকে তিনি বলেন, 'আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না!' পরে তিনি জানান, 'ঘরের ভিতরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ১৩০ এবং PM2.5 ছিল ৭৫ µg/m³। এটি ২৪ ঘণ্টায় ৩.৪টি সিগারেট খাওয়ার সমতুল্য।'
জনসন বলেন, 'ভারতে এটা আমার তৃতীয় দিন ছিল। বায়ু দূষণের কারণে আমার ত্বকে র্যাশ বেরিয়ে যায়। চোখ ও গলা জ্বলতে শুরু করে।' তাঁর মতে, বায়ু দূষণ ক্যান্সারের চেয়েও বড় বিপদ। তিনি বলেন, 'ভারত যদি তাদের বাতাসের মান উন্নত করে, তাহলে তাদের দেশের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতি হবে। পরিসংখ্যানগতভাবে, এতে সকলের ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়েও বড় উপকার হবে।'
ভারতীয়রা বায়ু দূষণকে জীবনের অংশ বলেই মেনে নিয়েছেন, আক্ষেপ করেন ব্রায়ান। তিনি লেখেন, 'ভারতে দূষণ ব্যাপারটা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে যে, কেউ এটিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না। যদিও বিজ্ঞানীরা বহুবার এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি দেখলাম কেউই মাস্ক পরছে না, এমনকি ছোট বাচ্চারাও না! অথচ মাস্ক পরলে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। এটা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম।'
ব্রায়ান জনসনের প্রশ্ন, 'ভারত কেন বায়ু দূষণ নিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা করছে না? আমি জানি না, কোন স্বার্থ, অর্থ ও ক্ষমতার কারণে এই পরিস্থিতিকে এমন অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে, কিন্তু এটা পুরো দেশের জন্য ক্ষতিকর।'
ব্রায়ান জনসন বলেন, 'দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য এয়ার ফিল্টার ব্যবহার, মাস্ক পরা এবং নিয়মিত বাতাসের মান পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।'
বায়ু দূষণ নিয়ে ব্রায়ান জনসনের এই মন্তব্যে ভারতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি যা বলেছেন, তা কি বাস্তবসম্মত? নাকি ভারত সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করা হচ্ছে? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।