মায়ের মৃতদেহ আগলে ৮ বছরের কিশোর।-ফাইল ছবিমাত্র আট বছর বয়সেই মায়ের শেষ যাত্রার সমস্ত দায় নিজের কাঁধে তুলে নিতে হল এক শিশুকে। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার। সেখানকার জৈথরা থানা এলাকার নাগলা ধীরাজ গ্রামের এই দৃশ্য অনেকের চোখেই জল এনে দিয়েছে।
মৃতার নাম নীলম (৪৫)। তিনি বীরাঙ্গনা অবন্তীবাই মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বছরখানেক আগেই এই শিশুটির বাবা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। তারপর থেকেই মা-ছেলে কার্যত একা। আত্মীয়স্বজনেরা ধীরে ধীরে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অভিযোগ, সম্পত্তির প্রতি লোভ থাকলেও নীলমের চিকিৎসায় কেউ কোনও সাহায্য করেনি।
মায়ের চিকিৎসার জন্য এই খুদে ছেলেটিই একা ফারুখাবাদ, কানপুর এমনকি দিল্লি পর্যন্ত ঘুরেছে। গত আট দিন ধরে সে মেডিকেল কলেজেই ছিল, দিনরাত মায়ের পাশে থেকে সব কাজ সামলেছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। শেষকৃত্যের সময় কাঁধে হাত রাখার মতোও কোনও আত্মীয় এগিয়ে আসেনি।
শিশুটির অভিযোগ, কাকা-সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সম্পত্তির দিকে নজর রাখলেও অসুস্থ মায়ের জন্য এক পয়সাও খরচ করেননি। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জানতে পেরে জৈথরা থানার অফিসার রিতেশ ঠাকুর হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশ প্রশাসনই শেষ পর্যন্ত নীলমের ময়নাতদন্ত ও শেষকৃত্যের দায়িত্ব নেয়। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, শুধু শেষকৃত্যই নয়, এই অসহায় শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সমাজ কতটা নির্মম হতে পারে। একই সঙ্গে দেখাল, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও এক শিশুর অসীম সাহস ও দায়িত্ববোধ কতটা বড় হয়ে উঠতে পারে।