বসুন্ধরা রাজে - পিটিআই ফাইল ছবিরাজস্থানে পুরভোটে বিজেপি-কে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলল কংগ্রেস। প্রবীণ বিজেপি নেত্রী ও রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি ঝালাওয়াড়ে বিজেপি শোচনীয়ভাবে পরাজিত। কংগ্রেস সেখানে বিপুল ভোটে জিতল। ঝালাওয়াড় জেলার আটটি পুরসভার মধ্যে ৪টিতে কংগ্রেস নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ঝালাওয়াড় পুর পরিষদে বিজেপি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস দীর্ঘদিন পর ঝালাওয়ার পুর পরিষদের দখল নিতে চলেছে।
ঝালাওয়াড় পুরসভা ছাড়াও কংগ্রেস ভবানী মান্ডি, খানপুর এবং দাগেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি শুধুমাত্র ঝালারাপাতান, আক্লেরা এবং মনোহরথানা পুরসভায় জয়লাভ করতে পেরেছে। ঝালাওয়াড় জেলার পিড়াওয়া পুরসভায় কেউই সুস্পষ্ট জনাদেশ পাননি, সেখানে তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে আম আদমি পার্টিই নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ঝালাওয়াড় পুরসভা দখল করছে কংগ্রেস
ঝালাওয়াড় পুর পরিষদের ৪৫টি ওয়ার্ডের ঘোষিত ফলাফলে কংগ্রেস দল বিপুল জয় অর্জন করে অসাধারণ সফল। এই পরিষদে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বোর্ড গঠন নিশ্চিত। ঝালাওয়াড় পুর পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেস ২৯টি কাউন্সিলর আসনে জয়লাভ করেছে। বিজেপি মাত্র ১৩টি ওয়ার্ডে, নির্দল প্রার্থীরা দুটি আসনে এবং আম আদমি পার্টি একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ঝালাওয়াড় পুর পরিষদে আগে বিজেপির একটি বোর্ড ছিল, কিন্তু কংগ্রেস দল সেটিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফেলল। ঝালাওয়াড় পুর পরিষদের এই জয়ে কংগ্রেস বেশ উচ্ছ্বসিত এবং এটিকে একটি বড় জয় বলে অভিহিত করছে তারা।
কংগ্রেস পুরসভা সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে জয়ী হতে চলেছে। এটিকে বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঝালাওয়াড় পুরসভায় ২৯টি আসন জিতে কংগ্রেস সহজেই ২৩ আসনের ম্যাজিক সংখ্যা অতিক্রম করেছে, যার ফলে ঝালাওয়াড় পুরসভার সভাপতি পদে কংগ্রেস নিশ্চিত।
বসুন্ধরা রাজের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপি নিশ্চিহ্ন
রাজস্থানের ঝালাওয়ার ও ঝালারাপাতান অঞ্চল কয়েক দশক ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং তাঁর পুত্র, সাংসদ দুষ্যন্ত সিংয়ের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই নির্বাচনে ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জয়লাভ করে কংগ্রেস বিজেপির এই শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আঘাত হেনেছে, যা বসুন্ধরা রাজের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঝালাওয়ার পুরসভা ঝালাওয়ার-বারান লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। বসুন্ধরা রাজের ছেলে দুষ্যন্ত সিং এখান থেকে ৫ বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তার আগে বসুন্ধরা রাজে নিজেও এই কেন্দ্র থেকে ৫ বার জিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খেসারত দিল বিজেপি
এত খারাপ রেজাল্টের নেপথ্যে বিজেপি-র অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির খারাপ ফলাফলের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে এই জয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হল।
বিজেপির হিসাবে মাত্র তিনটি পৌর এলাকা রয়েছে।
আক্লেরা পুরসভার ৩৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২৫টি, কংগ্রেস আটটি এবং নির্দল প্রার্থীরা দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন। মনোরথানায় ২০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১টি, কংগ্রেস ছয়টি এবং নির্দল প্রার্থীরা তিনটি আসন পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ঝালাওয়াড়ের ভবানী মান্ডি, দাগ ও খানপুর পুরসভায় জয় পেয়েছে কংগ্রেস। ভবানী মান্ডিতে কংগ্রেস ২৬টি, বিজেপি ১৩টি এবং নির্দল প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছেন। খানপুরে কংগ্রেস ১৮টি ও বিজেপি সাতটি আসন পেয়েছে। দাগে কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ১৪টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ছয়টি। পিডাওয়া পুরসভায় কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কংগ্রেস আটটি, বিজেপি ছয়টি, আম আদমি পার্টি পাঁচটি এবং নির্দল প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছেন।