গুজরাতে কলেজছাত্র খুন।-ফাইল ছবিগুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোল এলাকায় ২০ বছর বয়সি এক কলেজ পড়ুয়ার হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ অভিযোগ করেছে, এক বিবাহিতা মহিলাকে আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেল ও যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে ওই যুবককে শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মহিলার স্বামী। এই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দু'জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত হার্দিক অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ির কাছেই থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় দেড় থেকে দু'মাস আগে সে ওই মহিলার স্নানের সময় গোপনে ভিডিও তোলে। পরে সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মহিলাকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। সামাজিক অপমানের ভয়ে ওই মহিলা দীর্ঘদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি।
এদিকে, একদিন মহিলার স্বামী তাঁর স্ত্রীকে হার্দিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখে সন্দেহ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রী পুরো বিষয়টি স্বামীকে জানান। অভিযোগ, এরপরও হার্দিক প্রায়ই বাড়ির সামনে এসে মহিলাকে বিরক্ত করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী হত্যার পরিকল্পনা করেন। এবং স্ত্রীও তাতে সহযোগিতা করতে রাজি হন বলে পুলিশের দাবি।
তদন্ত অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকালে মহিলা ফোন করে হার্দিককে বাড়িতে ডাকেন। আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভান করেন। হার্দিক বাড়িতে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পর স্বামী গোপনে ফিরে এসে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অভিযোগ, স্ত্রী হার্দিকের হাত চেপে ধরেন, আর স্বামী প্রথমে একটি ওড়না, পরে বৈদ্যুতিক ফ্যানের তার দিয়ে তাঁর গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর দম্পতি মৃতদেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়িতে তালা লাগিয়ে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে পড়েন। পরে সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নেন।
নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, হার্দিক যে ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করছিল বলে অভিযোগ, সেই ভিডিওটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি। এমনকি অভিযুক্ত মহিলা বা তাঁর স্বামীও ভিডিওটি দেখেননি বলে পুলিশের দাবি। এছাড়া হত্যার পর হার্দিকের মোবাইল ফোন ভেঙে রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ফোনটি উদ্ধারের জন্য অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।
বর্তমানে কালোল তালুকা পুলিশ হত্যা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। তবে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ এবং অন্যান্য দাবি এখনও তদন্তাধীন; আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।