রাজ্যপালের কাছে অভিনেতা বিজয় জল্পনার অবসান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবেন অভিনেতা বিজয়। তিনি আজ বুধবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান। সদ্য গঠিত বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম সাম্প্রতিক নির্বাচনে DMK ও AIADMK-কে চমকে দিয়ে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে।
গত দু’দিন ধরে তামিলনাড়ুতে জোরদার রাজনৈতিক নাটকীয়তা দেখা যায়। AIADMK ও কংগ্রেসের মতো দলগুলি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন জানাতে আগ্রহ দেখায়। AIADMK-র মধ্যে ভাঙনের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। যেখানে সি ভি শানমুগম ও এস পি ভেলুমণি-র মতো নেতারা বিজয়কে সমর্থন করার পক্ষে মত দেন।
AIADMK নেতৃত্ব সরাসরি সরকারে না গিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছিল। এদিকে TVK-র পক্ষ থেকে এডাপ্পাড়ি কে পলানিস্বামী-র বাসভবনে সমর্থন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। জানা যায়, TVK নেতা আধাভ অর্জুন-এর সঙ্গে যুক্ত একটি গাড়ি সেখানে পৌঁছয়, যদিও সেই সময় তিনি বা TVK সাধারণ সম্পাদক বুসি আনন্দ উপস্থিত ছিলেন না।
তবে সম্ভাব্য TVK-AIADMK জোটের আলোচনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, কারণ কংগ্রেস এগিয়ে এসে বিজয়কে সমর্থন জানায়। কংগ্রেস জানায়, তাদের সমর্থন শর্তসাপেক্ষ—সংবিধানে বিশ্বাস না করা কোনও ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে জোটে রাখা যাবে না। যদিও তারা সরাসরি AIADMK-র নাম নেয়নি, রাজনৈতিক মহলে এটিকে NDA-ঘনিষ্ঠ দলগুলির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গিরিশের ডাকা কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠকে। দলের শীর্ষ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী-ও দিল্লিতে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বামপন্থী দল, VCK ও IUML—এর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে ভিজয়ের পক্ষে সমর্থন আরও জোরদার করা যায়।
ইতিমধ্যেই বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যা ৮ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে DMK কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছে। দলের নেত্রী কানিমোঝি সোমু এক পোস্টে লেখেন, 'DMK-র শক্তিতে বেড়ে ওঠা কংগ্রেস এখন সেই দলকেই চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে। এটা সিঁড়ি বেয়ে উঠে সেই সিঁড়িটাকেই লাথি মারার মতো নিম্নমানের কাজ।'