এস জয়শঙ্করইরান যুদ্ধের ১ মাস হতে চলল। এমতাবস্থায় কার্যত বন্ধ হরমুজ। যার ফলে তেল এবং গ্যাস সঙ্কটের আতঙ্কে ভুগছে গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানেই ইরান যুদ্ধে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে। আর এহেন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, ভারত কোনও দেশের দালাল নয়।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে জয়শঙ্করকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রী মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথন নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আর তার উত্তরে বিদেশমন্ত্রী জানান, মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে ইরান এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে। মোদী চান যাতে এই যুদ্ধ দ্রুত থেমে যায়। কারণ, এটা সব দেশেরই মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই বৈঠক চলে মোটামুটি দেড় ঘণ্টা। আর সেখানেই সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয় যে দেশে কোনও রকম জ্বালানি সঙ্কট নেই।
সরকার বিরোধীদের আস্বস্ত করেছে
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস এবং তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য একাধিক দেশের সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে কথা চলছে। অ্যাডভান্স বুকিংও করা হয়ে গিয়েছে।
হরমুজের অস্থিরতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় সরকারকে। তখন জানান হয়, হরমুজে অশান্তি রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আপাতত ভারতের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই ভারতে ৪টি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে উপস্থিত হবে।
পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই মুহূর্তে সবদিকে নজর রেখেছে ভারত। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির কোনও চাপ দেশের উপর নেই। তাই এই সময় প্যানিক করার কোনও কারণ নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীরা চাইলেই সরকারের সঙ্গে কথা বলতে পারে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিতে জোর দেন। অন্যদিকে বিদেশ সচিব বর্তমান সঙ্কটের পরিস্থিতি কীভাবে ভারত সামলাচ্ছে, সেটা জানান বিরোধীদের।
পাশাপাশি পাকিস্তান প্রশ্নেও কড়া জবাব দিয়েছে কেন্দ্র। তাদের দাবি, ইসলামাবাদের এহেন দালালি নতুন কিছু নয়। তারা এই কাজটা ১৯৮১ সাল থেকেই করে আসছে।