পুরীর রথ।-ফাইল ছবিরথযাত্রা উদযাপনের সময়সূচি ঘিরে ওড়িশায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইসকনের বিরুদ্ধে ‘অসময়ে’ রথযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ভুবনেশ্বরের সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন কলিঙ্গ সেনা। তাদের দাবি, এতে শ্রীজগন্নাথের প্রাচীন ধর্মীয় পরম্পরা ও শাস্ত্রসম্মত রীতিনীতির অবমাননা হচ্ছে।
শুক্রবার ভুবনেশ্বরের ইসকন মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ দেখান কলিঙ্গ সেনার কর্মীরা। সংগঠনের অভিযোগ, পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব বিশ্বজুড়ে একই তিথি ও সময়সূচি মেনে রথযাত্রা পালনের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করেই ইসকন নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী রথযাত্রার আয়োজন করছে।
কলিঙ্গ সেনার সভাপতি হেমন্ত রথ সাংবাদিকদের বলেন, 'ভগবান জগন্নাথের প্রথম সেবক হিসেবে গজপতি মহারাজকে সম্মান করা সকলের কর্তব্য। তাঁর আবেদন অগ্রাহ্য করে ইসকন জগন্নাথ সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। তাই ওড়িশায় তাদের থাকার নৈতিক অধিকার নেই।'
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, '১৬ জুলাই পুরীতে রথযাত্রার সময় ইসকনের কোনও ভক্তকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না'। পাশাপাশি, ইসকন যদি ‘অসময়ের’ রথযাত্রা আয়োজন চালিয়ে যায়, তবে ওড়িশাজুড়ে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কলিঙ্গ সেনা। হেমন্ত রথের বক্তব্য, 'যারা জগন্নাথ সংস্কৃতিকে সম্মান করে না, তাদের পুরীতেও সম্মান জানানো হবে না। পুরীতে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।'
এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, ইসকন যদি বিতর্কিত সময়সূচি অনুসারে রথযাত্রা পালন বন্ধ না করে, তবে সংগঠনের কর্মীরা রাজ্যজুড়ে ইসকনের কার্যক্রমের বিরোধিতা করবেন এবং প্রয়োজন হলে বিভিন্ন ইসকন মন্দিরে বিক্ষোভও দেখানো হবে।
কলিঙ্গ সেনা ওড়িশার সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ এলাকায় ইসকনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শুধু পুরী নয়, ভুবনেশ্বরে ইসকনের বার্ষিক রথযাত্রা নিয়েও আপত্তি তুলেছে সংগঠনটি। যদিও ভুবনেশ্বরের ইসকন মন্দির দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসরণ করেই এই উৎসব পালন করে আসছে বলে দাবি করা হয়।
রথযাত্রার নির্ধারিত তিথি ও সময়সূচি নিয়েই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত। ১৬ জুলাই পুরীর রথযাত্রাকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।