CJP: 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র X অ্যাকাউন্ট ব্লকড, কী এই আরশোলাদের দল? কে বানাল?

আচমকাই জনপ্রিয় ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার BJP-র থেকে বেড়ে যাওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ার খবর এল। কারা এই আরশোলার দল?

Advertisement
'ককরোচ জনতা পার্টি'-র X অ্যাকাউন্ট ব্লকড, কী এই আরশোলাদের দল? কে বানাল?ককরোচ জনতা পার্টি
হাইলাইটস
  • রাতারাতি জনপ্রিয় ককরোচ জনতা পার্টি
  • সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ার খবর
  • কারা এই আরশোলার দল?

আচমকাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) এক্স হ্যান্ডল বন্ধ হয়ে গেল দেশে। তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার BJP-র থেকে বেড়ে যাওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হওয়ার খবর এল। 

কী এই ককরোচ জনতা পার্টি?
এটি একটি জেন জি ক্যাম্পেন। রাজনৈতিক মিম তৈরির মধ্যে দিয়েই জন্ম হয় এই পার্টির। জন্মদাতা অভিষেক দিপকে। তিনি নিজেই বৃহস্পতিবার নিশ্চিত ভাবে জানিয়েছেন, তাঁর তৈরি ককরোচ জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখেছেন, 'ঠিক যেমনটা মনে করেছিলাম, তেমনটাই হল। ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে ভারতে।'

মাত্র কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক মিম তৈরির মাধ্যমে যে ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল, তা চোখের পলকে একটি ডিজিটাল সেনসেশনে পরিণত হয়েছে। বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং রাষ্ট্রকে নানাবিধ বিষয়ের জন্য দায়ী করে কটাক্ষসুলভ মিম তৈরি হচ্ছিল। যেগুলি দেদার শেয়ার করছিল যুব সম্প্রদায়। নাম দেওয়া হয় ককরোচ জনতা পার্টি 

CJP বনাম BJP
ইনস্টাগ্রামে এই ককরোচ জনতা পার্টি ১০ মিলিয়ন ফলোয়ার তৈরি করেছে। যা BJP-র অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের ৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারকে ছাপিয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের ফলোয়ার সংখ্যা ১৩ মিলিয়ন। 

যুব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে এই ককরোচ জনতা পার্টি। বলা হচ্ছে, এর মূল মন্ত্র, 'যুব সম্প্রদায়ের দ্বারা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য।' স্লোগানও তৈরি হয়েছে এই পার্টির। 'সেক্যুলার, সোশ্যালিস্ট, ডেমক্রেটিক, লেজি।' কটাক্ষ, মিমি এবং রাজনৈতিক খোঁচা দেওয়া থেকে শুরু করে একটি প্ল্যাটফর্ম তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে রাতারাতি। 

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তেপ সুপ্রিম কোর্টে করা গত সপ্তাহের একটি মন্তব্যই এই ককরোচ জনতা পার্টির নামকরণের নেপথ্যে কাজ করেছে। বেকার যুবকরা অনলাইনে বেশি সময় কেন কাটান, সে সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে 'আরশোলা' এবং 'পরজীবী' শব্দগুলি। 

কে এই অভিজিৎ দিপকে?
বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পাশ ৩০ বছরের অভিজিৎ দিপকে একটা সময়ে ছিলেন আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন ওয়ার্কার হিসেবে। তিনি বলেন, 'CJI-এর মন্তব্যে থাকা ওই দু'টি শব্দই আমাকে নয়া আন্দোলন গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।' তাঁর সংযোজন, 'যিনি সংবিধানের রক্ষাকর্তা, তাঁর থেকে এ ধরনের মন্তব্য আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। সংবিধানই তো আমাদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছে।'

Advertisement

যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যের সপক্ষে দাবি করেছিলেন, তাঁর কথা বিকৃত করা হয়েছে। যারা ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে নানা পেশায় ঢুকে পড়েছে, তাদের জন্যই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। 

তবে CJI-এর সাফাই মোটে যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ারদের। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই পার্টি লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার অর্জন করে ফেলে। এই পার্টি জয়েন করে ফেলেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ। 

ককরোচ জনতা পার্টির আদর্শ কী?
দলের ইশতেহারও তৈরি হয়েছে। যেখানে ব্যঙ্গের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক দাবিদাওয়াও প্রকাশ পেয়েছে। তাদের প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে অবসর পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতিদের জন্য রাজ্যসভার পদে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচন কমিশনের আরও শক্তিশালী জবাবদিহি করার ক্ষমতা, সংসদ ও মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং মিডিয়ার মালিকানা ও কর্মসংস্থান অধিকারের ক্ষেত্রে সংস্কার। 

CJP নিজেকে সেই সব ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বর হিসেবেও তুলে ধরেছে, যাঁরা NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং বেকারত্বের মতো সমস্যায় প্রভাবিত হয়েছে। 

অভিজিৎ দিপকে জোর দিয়ে বলেছেন, 'এই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষণস্থায়ী কোনও মিম ট্রেন্ড নয়, বরং ভারতীয় যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রতিফলন।'

ককরোচ জনতা পার্টি আদৌ একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হবে নাকি ইন্টারনেট নির্ভর প্রতিবাদ আন্দোলন হিসেবেই থেকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

 

TAGS:
    POST A COMMENT
    Advertisement