নিজস্ব ছবি 'এনার্জি লকডাউন'। বিশ্বব্যাপী গভীর তেল সঙ্কটের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই শব্দ হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে কোভিড অতিমারি পর্বে কাটানো বিভীষিকাময় দিনগুলি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'এনার্জি লকডাউন' সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিস্থিতি। এর সঙ্গে কোভিড লকডাউনের কোনও সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে কেন্দ্রের তরফে সমস্ত গুজব উড়িয়ে দিয়ে জানানো হয়েছে, লকডাউন জারি হওয়ার গুজব ভুয়ো।
'এনার্জি লকডাউন' বলতে বোঝানো হচ্ছে এমন কিছু পদক্ষেপ যা জ্বালানি, গ্যাস এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য পরিকল্পনা করা হতে পারে। বিশেষ করে যখন সরবরাহে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই শব্দটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। যা এখন বড় অংশে বাধাপ্রাপ্ত।
২৪ মার্চ, ২০২০ সালে যেদিন ভারতে প্রথম কোভিড ১৯ লকডাউন হয়েছিল, তার ষষ্ঠ বর্ষপূর্তিতে এই শব্দটি ট্রেন্ডিং হয়। অতীতের স্মৃতি এবং বর্তমান উদ্বেগ একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
কী এই এনার্জি লকডাউন?
এমন একটি পদক্ষেপ যার মাধ্যমে জ্বালানি, গ্যাস এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হয় , যখন সরবরাহে বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দেয়। কোভিড লকডাউনের মতো এই ক্ষেত্রে শহর বন্ধ করা বা সীমান্ত সিল করা হয় না।
ভারত কি এখন এনার্জি লকডাউনের মধ্যে রয়েছে?
না। সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক লকডাউন ঘোষণা করেনি। তবে LPG-র ঘাটতি এবং শিল্পক্ষেত্রে কাটছাঁটের কারণে দৈনন্দিন জীবনে কিছু প্রভাব পড়ছে।
এই শব্দটি এখন কেন এত ট্রেন্ডিং?
২৪ মার্চের আশপাশে এই শব্দটি বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যেদিন ভারতে প্রথম কোভিড লকডাউন হয়, তার ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি ছিল ওই দিন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে বাস্তবে জ্বালানিক ঘাটতিও তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে।
কী কী হতে পারে এই এনার্জি লকডাউনে?
আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির পরিকল্পনায় কিছু পদক্ষেপ রয়েছে। যেমন ওয়ার্ক ফর্ম হোম, গাড়ির গতি কমানো, গণপরিবহণ ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবহণের বদলে রান্নার কাজে LPG ব্যবহারে জোর দেওয়া।