Amaravati Video Case: ১৮০ তরুণী, ৩৫০ গোপন VIDEO! ঠিক কী ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে?

মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে তরুণীদের গোপন ভিডিও লিক করে গ্রেফতার ২। ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মোড়ও নিয়েছে এই কেলেঙ্কারি। ঠিক কী কী তথ্য উঠে আসছে?

Advertisement
১৮০ তরুণী, ৩৫০ গোপন VIDEO! ঠিক কী ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে? অমরাবতী কাণ্ডে লিক একাধিক ভিডিও
হাইলাইটস
  • তরুণীদের গোপন ভিডিও লিক করে গ্রেফতার ২
  • শোরগোল পড়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে
  • রাজনৈতিক মোড়ও নিয়েছে এই কেলেঙ্কারি

মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার পারাতওয়াড়ার প্রকাশ্যে আসা ভিডিও কেলেঙ্কারি রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, বিষয়টি কয়েকটি ভাইরাল ক্লিপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য সামনে আসছে। উদ্ধার হয়েছে ১৮০ জন তরুণীর ৩৫০ গোপন ভিডিও। পুলিশ এখন আর এই ঘটনাকে শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় হিসেবে দেখছে না। বরং এর নেপথ্যে বৃহত্তর চক্র জড়িত রয়েছে বলেও অনুমান করছে। 

এই মামলার দ্বিতীয় বড় পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ উজের খান ইকবালকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, তিনি মূল অভিযুক্ত আয়ান আহমেদের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছিলেন। পুলিশ উজেল খানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আরও ধারণাস জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে আসতে পারে ভিডিওগুলি কোথায় তৈরি হয়েছিল, সেগুলি কার কাছে পৌঁছত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। 

প্রধান অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার
মূল অভিযুক্ত আয়ান আহমেদকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত তাকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ তার মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এতে থাকা মেয়েদের শনাক্ত করার কা চলছে। পুলিশ জানাচ্ছে, এই তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ভুক্তভোগীদের পরিচয় কঠোর ভাবে গোপন রাখা হচ্ছে। 

ভুক্তভোগীরা যাতে কোনও চাপ ছাড়াই কথা বলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই মামলার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, কিছু ডেটা মুছে ফেলা হয়েছে। পুলিশের সাইবার টিম এখন তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। 

ভিডিও শেয়ার না করার অনুরোধ 
পুলিশ জনসাধারণকে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ করেছে। এমনটা করা একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর ফলে ভুক্তভোগীদের আরও ক্ষতি হতে পারে। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অনেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিছু সংগঠন ধর্নার ডাকও দিয়েছে। যার ফলে পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। 

Advertisement

রাজনৈতিক মোড়
ঘটনা ক্রমশই রাজনৈতিক মোড় নিচ্ছে। বিরোধী দল সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, শাসকদল দাবি করেছে, এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে অভিযুক্তের কথিত রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়েও আলোচনা চলছে। কিথু নেতা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, অভিযপক্তকে সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

আচলপুর এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কিছু নেতা একটি SIT গঠনের আহ্বানও জানিয়েছেন। পারাতওয়াড়া থানার কর্তারা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা যে কোনও থানায় জিরো FIR দায়ের করতে পারবেন এবং তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement