NEET Paper Leak Protest: দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে পড়ুয়াদের আন্দোলন, ককরোচ জনতা পার্টি আসলে কী? কেন এই রকম নাম? যা জানা জরুরি

এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি সোনম ওয়াংচুক একটি ৩ মিনিটের ভিডিও বার্তায় বললেন, 'আমি এখনও বেঁচে আছি। আমার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছে। পেশীর শক্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে আমি ভাল আছি।'

Advertisement
দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে পড়ুয়াদের আন্দোলন, ককরোচ জনতা পার্টি আসলে কী? কেন এই রকম নাম? যা জানা জরুরিনিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন -- পিটিআই
হাইলাইটস
  • কেন ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনে রাস্তায় নামলেন?
  • সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনে নতুন মাত্রা
  • CJP-র মূল দাবি কী?

NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে উত্তাল গোটা দেশ। পড়ুয়াদের আন্দোলন এখন আর দিল্লির যন্তর মন্তরে সীমাবদ্ধ নেই। বেঙ্গালুরু, পটনা সহ দেশের নানা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। সবার একটাই দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রধান অভিজিত্‍ দিপকে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আন্দোলন শুরু করে। এবং পরে প্রতিবাদ ধর্না শুরু হয় দিল্লির যন্তর মন্তরে। আপাতত গোটা দেশে এটি ছাত্র-যুবদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।  

কেন ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনে রাস্তায় নামলেন?

বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশনস স্ট্র্যাটেজিস্ট ৩০ বছর বয়সী অভিজিত্‍ দিপকে মূলত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন।  প্রথমে বিষয়টি নিছকই হালকা করে শুরু হয়।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিত্‍ দিপকে -- পিটিআই
ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিত্‍ দিপকে -- পিটিআই

অভিজিত্‍ দিপকের কথায়, 'ভাবলাম সবাইকে একসঙ্গে আনার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যাক।' সেই উদ্দেশ্যে একটি গুগল ফর্ম চালু করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে হাজার হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেন। এরপরই এটি একটি বড় আন্দোলনের রূপ নেয়। গত ৯ জুলাই সংসদ অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। ২০ জুলাই দিল্লিতে সেই কর্মসূচিতে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ যোগ দেন। পাশাপাশি মুম্বই, বেঙ্গালুরু, গোয়া সহ একাধিক শহরেও প্রতিবাদ ও মোমবাতি মিছিল হয়।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনে নতুন মাত্রা

এই আন্দোলন আরও গুরুত্ব পায় যখন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক CJP-র সমর্থনে অনশন শুরু করলেন। ২৮ জুন থেকে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। গত শনিবার তাঁকে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়। হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি সোনম ওয়াংচুক একটি ৩ মিনিটের ভিডিও বার্তায় বললেন, 'আমি এখনও বেঁচে আছি। আমার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছে। পেশীর শক্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে আমি ভাল আছি।'

Advertisement

দিল্লির রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন - পিটিআই
দিল্লির রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন - পিটিআই

কেন সংগঠনের নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি'?

এই নামের পেছনেও রয়েছে বিতর্ক। গত মে মাসে একটি মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, বেকার যুবকদের একাংশ সাংবাদিকতা ও আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে 'আরশোলা' ও 'পরজীবী' হয়ে উঠছেন। পরে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্য ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে ছিল, দেশের সমস্ত যুবক-যুবতীদের নয়। এই মন্তব্যকেই ব্যঙ্গ করে আন্দোলনকারীরা নিজেদের সংগঠনের নাম রাখেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'। আন্দোলনের বহু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিবাদে আরশোলার পোশাক পরে অংশ নিচ্ছেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ -- পিটিআই
ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ -- পিটিআই

CJP-র মূল দাবি কী?

সংগঠনটির প্রধান দাবি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার। বিশেষ করে NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ২২.৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং নতুন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের কাছে এটি ছিল বড় ধাক্কা। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা বাতিলের মানসিক চাপে অনেক ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

পড়ুয়াদের সংসদ অভিযান রুখতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস- পিটিআই
পড়ুয়াদের সংসদ অভিযান রুখতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস- পিটিআই

রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর

পডুয়াদের সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশি প্রতিরোধের পরের দিন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। পরে তাঁদের আটক করে পুলিশ, যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে না দেওয়াতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ করে বলেন, 'ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও কংগ্রেস সমাধানের বদলে রাজনৈতিক নাটক করছে।'

POST A COMMENT
Advertisement