masoud pezeshkian : মোদীর সঙ্গে চাবাহার নিয়ে কী আলোচনা? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ভারতের জন্য চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, চাবাহার এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
মোদীর সঙ্গে চাবাহার নিয়ে কী আলোচনা? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্টইরানের প্রেসিডেন্ট (ছবি ITG)
হাইলাইটস
  • ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত ও ইরানের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো
  • সেই গভীর সাংস্কৃতিক শিকড়ের উপর ভিত্তি করেই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এসেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতে এসে ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের এডিটর (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) গীতা মোহনের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা

ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। তাঁর কথায়, ভারত ও ইরানের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত ও ইরানের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। সেই গভীর সাংস্কৃতিক শিকড়ের উপর ভিত্তি করেই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুই দেশই একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। ভারত ও ইরানের দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগাযোগকে ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

চাবাহার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের জন্য চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, চাবাহার এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিবহণ এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘চৌরাস্তা’। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান দক্ষিণকে উত্তরের সঙ্গে এবং পশ্চিমকে পূর্বের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কথায়, আঞ্চলিক দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি সহজ এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচের পথ হতে পারে।

Advertisement

ফের সক্রিয় হতে পারে প্রাচীন সিল্ক রোড?

চাবাহার প্রসঙ্গে ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, অতীতে ইরান সিল্ক রোডের অংশ ছিল। সেই পথ ধরেই বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ এবং আদানপ্রদান গড়ে উঠেছিল।

ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, সেই পুরনো যোগাযোগের পথকে নতুন করে সক্রিয় করার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই কাজে ভারত এবং ইরানকে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, চাবাহারকে শুধুমাত্র একটি বন্দর হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের অংশ হিসেবেই দেখছে ইরান।

যুদ্ধের মধ্যেও চাবাহারের গুরুত্ব

ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল এবং আমেরিকার সংঘাতের পরিস্থিতিতে চাবাহার বন্দরের বাস্তব কার্যকারিতা কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নও ওঠে সাক্ষাৎকারে। বিশেষ করে যুদ্ধ এবং সেখানে হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের জন্য চাবাহারের গুরুত্ব কতটা অটুট রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে পেজেশকিয়ান চাবাহারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চাবাহার ভারতের জন্যও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরকে ব্যবহার করে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একটি বিকল্প পথ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মূলত চাবাহারের বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরেছেন।

মোদীর সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। সেখানে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চাবাহার সেই সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দরটির মাধ্যমে ভারত ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৃহত্তর মধ্য এশিয়া অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগের সম্ভাবনাও দেখে।

আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়েও মুখ খুললেন

সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে তাঁর দেশের সংঘাতের বিষয়েও কথা বলেন। যুদ্ধের পরিস্থিতি, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

পেজেশকিয়ান একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। ফলে সাক্ষাৎকারে শুধু ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উঠে আসে।

তবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে চাবাহারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ভারত-ইরান সম্পর্কের নতুন গুরুত্ব

ব্রিকস সম্মেলনের সময় পেজেশকিয়ানের ভারত সফর এবং মোদীর সঙ্গে বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে চাবাহার, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং ভারত-ইরানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে যেমন দুই দেশের পুরনো সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবেও চাবাহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বার্তা, ভারত ও ইরান নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং পারস্পরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement