'একজন বিচারক কোথায় অভিযোগ করবেন?' সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন যৌন নিগ্রহের শিকার মহিলা বিচারকের

মধ্যপ্রদেশে এক মহিলা বিচারকের যৌন হয়রানির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়ছে। প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এই মামলায় আদালতকে বলেন,নিম্ন আদালতেও মহিলা বিচারকদের যৌন হয়রানির মামলা চলার উপযুক্ত ফোরাম নেই। আদালতে শুধু কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য কমিটি থাকে।

Advertisement
'একজন বিচারক কার দ্বারস্থ হবেন?' SC-তে প্রশ্ন যৌন নিগ্রহের শিকার মহিলা বিচারকেরসুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • 'একজন বিচারক কোথায় অভিযোগ করবেন?'
  • SC-তে প্রশ্ন যৌন নিগ্রহের শিকার মহিলা বিচারকের
  • জানুন বিস্তারিত তথ্য

মধ্যপ্রদেশে এক মহিলা বিচারকের যৌন হয়রানির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়ছে। প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এই মামলায় আদালতকে বলেন,নিম্ন আদালতেও মহিলা বিচারকদের যৌন হয়রানির মামলা চলার উপযুক্ত ফোরাম নেই। আদালতে শুধু কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য কমিটি থাকে। বিচারকদের জন্য এমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। প্রকৃতপক্ষে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের জেলা আদালতে একজন মহিলা বিচারক চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর এক সিনিয়র ওই মহিলার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন।

ইন্দিরা জয়সিংয়ের এই যুক্তির পরে, প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ঘটনার বিবরণে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেন। তদন্তের জন্য দুই বিচারপতির একটি কমিটিও গঠন করেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু অভিযোগকারী বিচারক এতে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই মহিলা বিচারক সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেন যে এই ধরনের ঘটনা নজরে আসার পরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন এবং একটি স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট মহিলা বিচারকের কথা শুনে দুই বিচারপতির কমিটি বরখাস্ত করে তিন বিচারপতির নতুন কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

ইন্দিরা জয়সিং আদালতকে জানায় যে সেই কমিটিও প্রমাণ সংগ্রহ করেনি বা বিবৃতির ভিত্তিতে যেমন মুখোমুখি এবং মামলার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত অভিযুক্ত এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। ইতিমধ্যে পঞ্চাশ জন সাংসদ তাঁদের স্বাক্ষর সহ একটি প্রস্তাব পাস করে সংসদে পাঠিয়েছেন। তাতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের অভিযুক্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হোক। সংসদে অভিশংসনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয় এবং এ জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তিন বিচারপতির কমিটি দেখেছে, বদলি নীতি বাস্তবায়ন হয়নি। মহিলা বিচারককে জোর করে বড় শহর থেকে ছোট শহরে বদলি বা পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। জেলা আদালতে বিচারকদের বদলি নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও বিচারকের মেয়ে যদি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়েন বা পরীক্ষায় বসবেন, বদলি ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এ ক্ষেত্রেও অভিযোগকারী মহিলা বিচারকের বদলি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার অধিকার ছিল। কিন্ত আগতে দেখা যাচ্ছে যে ওই মহিলা বিচারককে পদত্যাগ করতে হয়েছিল শেষ পর্যন্ত।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement