E20 Janta Party: E20 জনতা পার্টির ফলোয়ার লাফিয়ে বাড়ছে, এরা আবার কারা? কে বানাল?

ককরোচ জনতা পার্টির পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলছে E20 জনতা পার্টি। বড়সড় ডিজিটাল ক্যাম্পেন চালাচ্ছে তারাঁ। এই পার্টি কে বানাল?

Advertisement
E20 জনতা পার্টির ফলোয়ার লাফিয়ে বাড়ছে, এরা আবার কারা? কে বানাল?E20 জনতা পার্টি
হাইলাইটস
  • কে বানাল E20 জনতা পার্টি?
  • বড়সড় ডিজিটাল ক্যাম্পেন চালাচ্ছে তারা
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলছে E20 জনতা পার্টি

E20 Janta Party: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন নাম দ্রুত ভাইরাল হতে শুরু করেছে। এটি কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজনৈতিক দল নয়, বরং E20 পেট্রোলের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন প্রচার। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ এর সমর্থমে যোগ দেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা বাড়তে শুরু করে। এই 'E20 জনতা পার্টি'-র নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের দাবিগুলি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

E20 জনতা পার্টি কী? 
E20 জনতা পার্টি কোনও সংগঠন বা রেজিস্টার্ড দল নয়। এটি এক্স হ্যান্ডল এবং ইনস্টাগ্রামে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এই দলটি নিজেদেরকে সাধারণ গাড়িচালকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি তাঁদের দ্বারা চালু করা একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেন। যাঁরা বিশ্বাস করে, দেশজুড়ে E20 পেট্রোলের প্রচারের পাশাপাশি গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল (ইথানল মুক্ত পেট্রোল) কেনার বিকল্পও থাকা উচিত। তাঁরা বলে, সরকারি যদি E20 সহজলভ্য করতে চায়, তবে তা করতে পারে। কিন্তু পাম্পে ইথানল ছাড়াও পেট্রোল পাওয়া উচিত। যাতে গ্রাহকরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

এই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল তৈরি করা হয়েছে। E20 পেট্রোল নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীরা দ্রুত এই ক্যাম্পেনে যোগ দিচ্ছেন। হ্যান্ডলটির একটি পোস্ট লেখা হয়েছে, 'আমাদের গাড়িগুলি কোনও পরীক্ষামূলক যন্ত্র নয়। আমরা এগুলি আমাদের কষ্টার্জিত টাকায় কিনেছি। আমরা ইতিমধ্যেই ট্যাক্স দিয়েছি।'

পোস্টটিটে আরও বলা হয়েছে, 'ভারত একটি মধ্যবিত্ত দেশ। এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে গাড়ি থাকা কেবলমাত্র শখ নয়। এটি কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনের একটি মাধ্যম। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা সরাসরি আর্থিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, গাড়ি নির্মাতারা তাঁদের গাড়ির জন্য যে জ্বালানির সুপারিশ করেন, তা ব্যবহার না করে আমরা কেন সাধারণ মানুষের হাড়ির ইঞ্জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব?'

Advertisement

E20 পার্টির দাবি কী?
E20 জনতা পার্টির প্রধান দাবি হল, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে E20-র পাশাপাশি ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোলও সরবরাহ করতে হবে। এই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের একটি পোস্ট অনুসারে, তারা কোনও ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি, বিনামূল্যে জ্বালানি বা ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বাতিলের দাবি করছে না। তারা কেবল চায়, গ্রাহকরা যেন তাদের প্রয়োজনীয় পেট্রোল বেছে নেওয়ার অধিকার পায়। 

> যানবাহন প্রস্তুতকারকের সুপারিশ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা উচিত। 
> সাধারণ নাগরিকদের উপর কোনও ধরনের জ্বালানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
> পছন্দের জ্বালানি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। 
> যানবাহনগুলি পরীক্ষাগার নয়।

E20 জনতা পার্টি কারা গঠন করেছে? এর রাজনৈতিক যোগসূত্র কী?
E20 জনতা পার্টির হ্যান্ডল থেকে করা একটি পোস্টে বলা হয়েছে, 'এটি একটি স্বাধীন নাগরিক ক্যাম্পেন, যার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলি তুলে ধরা। আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গ্রাহকদের অধিকার রক্ষা করা এবং ভারতের E20 নীতির প্রকৃত প্রভাব নিয়ে একটি উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ আলোচনাকে উৎসাহিত করা।'

পোস্টটিতে আরও বলা হয়েছে, 'আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন কর না। কারও জন্য প্রচার করি না। আমাদের সমর্থন কেবল দেশের নাগরিকদের এবং তাদের অধিকারের প্রতি। কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি নয়। এই ক্যাম্পেনের পিছনে কারা আছে বা কোথা থেকে এটি পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে গুজব, জল্পনা-কল্পনায় না জড়িয়ে আসল বিষয়ের উপর মনোযোগ দেওয়া জরুরি। এই ধরনের বিষয়গুলি কেবল মূল প্রশ্নগুলি থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।' E20 জনতা পার্টির সংযোজন, 'আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। জবাবদিহি করতে হবে। জ্বালানি নীতি এবং এর প্রভাব সম্পর্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকতে হবে। দেশের গ্রাহকদের কথা শুনতে হবে। যাতে তাঁদের মতামত ও উদ্বেগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।'

E20 জনতা পার্টিকেও ককরচো জনতা পার্টির সঙ্গে লিঙ্ক করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে একাধিক মিম, ব্যঙ্গ ও অভিযোগ হয়েছে। 

E20 জনতা পার্টির এই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে দ্রুত মানুষ যোগ দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১৩ হাজার। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement