K Pajanivel Padma Shri Award: বিলুপ্তপ্রায় যুদ্ধকলা ‘সিলাম্বাম’-এর পুনরুজ্জীবন, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত পুদুচেরির কে পাজানিভেল

ছোটবেলা থেকেই লোকসংস্কৃতির প্রতি তাঁর টান ছিল অমোঘ। ওস্তাদ বা মাস্টার রাজারামের (Master Rajaram) সুযোগ্য নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানেই তাঁর সিলাম্বাম শিক্ষার হাতেখড়ি। প্রথম দিকে এটি কেবলই একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে শুরু হলেও, কালক্রমে তা পাজানিভেলের জীবনের একমাত্র ব্রত এবং মূল মিশনে পরিণত হয়।

Advertisement
বিলুপ্তপ্রায় যুদ্ধকলা ‘সিলাম্বাম’-এর পুনরুজ্জীবন, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত পুদুচেরির কে পাজানিভেল পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত পুদুচেরির কে পাজানিভেল

K Pajanivel Padma Shri Award: ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য আর লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ যাঁদের হাত ধরে বেঁচে রয়েছে, তাঁদেরই একজন পুদুচেরির কে পাজানিভেল (K. Pajanivel)। তামিলনাড়ুর অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট বা যুদ্ধকলা “সিলাম্বাম” (Silambam)-এর সংরক্ষণ ও বিশ্বজুড়ে তার প্রচার-প্রসারের অক্লান্ত লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ (Padma Shri)-তে ভূষিত করা হলো। মূলত বাঁশের লাঠি চালনা এবং সুনির্দিষ্ট কিছু টেকনিক বা কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এই প্রাচীন রণকলা। পাজানিভেলের হাত ধরেই এই প্রায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য আজ নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে এক অনন্য পরিচিতি পেল।

মাস্টার রাজারামের হাত ধরে শুরু
১৯৭৩ সালের ৩০ জানুয়ারি পুদুচেরির পুরানানকুপ্পাম (Pooranankuppam) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে পাজানিভেল। ছোটবেলা থেকেই লোকসংস্কৃতির প্রতি তাঁর টান ছিল অমোঘ। ওস্তাদ বা মাস্টার রাজারামের (Master Rajaram) সুযোগ্য নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানেই তাঁর সিলাম্বাম শিক্ষার হাতেখড়ি। প্রথম দিকে এটি কেবলই একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে শুরু হলেও, কালক্রমে তা পাজানিভেলের জীবনের একমাত্র ব্রত এবং মূল মিশনে পরিণত হয়।

কয়েক দশক ধরে তিনি নিঃস্বার্থভাবে সিলাম্বামের প্রচারের কাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অজস্র প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং লাইভ ডেমোন্স্ট্রেশনের (প্রদর্শনী) মাধ্যমে তিনি এই প্রাচীন কলাকে আমজনতার কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। শুধু তাই নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিতে তিনি বহু ছাত্রছাত্রীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিলাম্বামের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন। পাজানিভেলের মূল উদ্দেশ্য কেবল লাঠি খেলার টেকনিক শেখানো নয়, বরং সিলাম্বামের যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে, তাকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখা।

ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কার, পদ্মশ্রী পেয়ে কী বললেন পাজানিভেল?
পদ্মশ্রী পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পাজানিভেলের ঝুলিতে এসেছে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক সম্মান। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের তালিকা:

Advertisement

২০২৩: পরিবেশন শিল্পে বা পারফর্মিং আর্টস-এ অনন্য অবদানের জন্য 'সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার' (Sangeet Natak Akademi Award for Martial Arts)।

২০১২: পুদুচেরি সরকার কর্তৃক রাজ্য স্তরের সর্বোচ্চ সম্মান 'কালাইমামানি পুরস্কার' (Kalaimamani Award)।

২০০৪: নেহেরু যুব কেন্দ্রের পক্ষ থেকে 'বেস্ট ইউথ অ্যাওয়ার্ড' (Best Youth Award)।

২০০২: আন্তর্জাতিক স্তরে 'সিলাম্বাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড' (Silambam International Award)।

পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর আকাশবাণীর (Akashvani) মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান এই গুণী শিল্পী। তিনি স্পষ্ট বলেন, এই সর্বোচ্চ সম্মান তামিল ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার লড়াইয়ে তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। এর পাশাপাশি তিনি দাবি তোলেন, ভারতের এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্টকে এবার স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর জন্য তিনি সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এবং আগামী দিনে সিলাম্বামকে বৈশ্বিক স্তরে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

মোদী সরকারের ‘মাটির মানুষ’দের খোঁজ
এই রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) দূরদর্শী ভাবনার কথা। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের লোকসংস্কৃতি, বিলুপ্তপ্রায় প্রাচীন কলা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ ও প্রচারের আলোয় নিয়ে আসছে। পদ্ম পুরস্কারের মঞ্চে এখন আর কোনও লবিং চলে না, বরং কে পাজানিভেলের মতো যাঁরা একদম মাটির স্তরে বা গ্রাসরুট লেভেলে কাজ করে চলেছেন, তাঁরাই আজ জাতীয় স্তরে যথাযোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement