
নিতিন নবীনবিজেপি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন নিতিন নবীন। সোমবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি এই পদে জয় পেয়েছেন। আর আজ, মঙ্গলবার তিনি শপথ নেবেন। সকাল ১১.৩০ মিনিটে তিনি শপথ নেবেন বলে জানা যাচ্ছে। আর তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ একাধিক শীর্ষ নেতা থাকবেন বলে খবর।
আর কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা দলের সভাপতি হিসেবে এমন অচেনা মুখ উঠে আসার পর অনেকের মনেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসা, কে এই নিতিন নবীন? কীভাবে তাঁর উত্থান? আর সেই সব প্রশ্নের উত্তর রইল।
কে এই নিতিন নবীন?
দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও বিহারের পরিচিত মুখ নিতিন। আর শুধু পরিচিত বললে ভুল হয়ে যাবে, বরং নির্ভরযোগ্য মুখ বলাই শ্রেয়। তাঁর জন্ম পটনায়। তিনি বিহার বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর প্রসাদ সিনহার ছেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা নিতিনের।
যদিও বাবার অকালপ্রয়ানের পর নিতিনের উপর গুরুতর দায়িত্ব এসে পড়ে। তিনি রাজনীতিতে নামেন। তারপর ধীরে ধীরে বাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন।

একাধিকবারের বিধায়ক
রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর থেকেই বিহার বিজেপিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন নিতিন। তিনি একাধিকবারের বিধায়ক। প্রথমবার জেতেন ২০০৬ সালের বিহার উপনির্বাচনে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১০ থেকে শুরু করে ২০১৫, ২০২০ এবং ২০২৫ সালে পটনার বাংকিপুর আসন থেকে জেতেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিরাট ভোটে জিতেছেন নিতিন। এই ভোটে ৫১ হাজার ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে এগিয়ে ছিলেন তিনি। তাই স্বভাবতই নীতীশ কুমার সরকারে মন্ত্রিসভায় করে নিয়েছেন স্থান। আর এই ফলাফলই প্রমাণ করে দেয় যে আর যে বিহারে তাঁর জনপ্রিয়তা ঠিক কতটা!
কেন নিতিনকে বেছে নেওয়া হল?
আসলে জেপি নড্ডার জায়গায় এমন কাউকে বিজেপির আসনে বসাতে চেয়েছে দলীয় নেতৃত্ব, যাঁর উপর ভরসা রয়েছে আরএসএস-এরও। পাশাপাশি যিনি নির্বাচনটা ঠিক ঠাক বোঝেন। আর এই সব ক্ষেত্রেই লেটার মার্কস পাশ করেছেন নিতিন।
শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। মোহন ভগবতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল। পাশাপাশি তিনি বিহার ভোটে জেডিইউ এবং বিজেপির মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করেছেন। এনডিএ-কে বিরাট ভোটে জিতিয়েছেন। সেই সঙ্গে ছত্তিশগড় বিধানসভাতেও বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে করেছেন কাজ। আর সেই কারণেই তাঁকে বিজেপির সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হল বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও অপর একটি মতও রয়েছে। সেই মতের বিশ্বাসীরা মনে করছেন, আদতে বিজেপির রাশ নিজেদের কাছে রাখতে চান নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ জুটি। এমন পরিস্থিতিতে কোনও পরিচিত মুখকে সভাপতি করা হলে মতবিরোধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে নিতিনের উপর বাজি রাখা অনেক নিরাপদ। শাহ এবং মোদীর সিদ্ধান্তের উপর কথা বলতে পারেন, এমন ক্ষমতা তাঁর এখনও নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই তাঁকে মসনদে বসানো হল বলে মনে করা হচ্ছে।