মিড ডে মিল খাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা -- ফাইল ছবি'সানডে হো ইয়া মনডে, রোজ খাও আন্ডে,' কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির এই জিঙ্গল ভীষণ জনপ্রিয়। বার্তা খুব স্পষ্ট, সমাজের সব স্তরের মানুষ সস্তায় উচ্চমানের প্রোটিনের উত্স হিসেবে যাতে ডিমকে বেছে নেন, সেই সচেতনতা বাড়ানো। ভিটামিন C ছাড়া প্রায় সব প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে ডিমে। তাই ডিমকে বলা হয় সুপারফুড।
দেশের সব রাজ্যে আর মিড ডে মিলে ডিম থাকছে না
এই কারণেই ভারতের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের মেনুতে ডিম রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দেশের সব রাজ্যে আর মিড ডে মিলে ডিম থাকছে না। ডেটা বলছে, বেশির ভাগ বিজেপি শাসিত রাজ্যই স্কুলে মিড ডে মিলে ডিম বাতিল করছে। পশ্চিমবঙ্গেও পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে ISKCON মিড ডে মিল খাওয়াবে। সেই মিলে ডিম থাকছে না।
এত দিন পর্যন্ত দেশের ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হয়, সেই তালিকায় ছিল পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমানে দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে মাত্র ১৪টি জায়গায় স্কুলে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হয়।
মাত্র ৫ বিজেপিশাসিত রাজ্যে ডিম খাওয়ানো হয়
২০২৫ সালে মহারাষ্ট্র সরকার স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার জন্য তহবিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এবার সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও যুক্ত হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিজেপি বা তাদের জোটসঙ্গীদের শাসিত ২২টি রাজ্যের মধ্যে মাত্র পাঁচটি রাজ্যে, অসম, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে, সরকারি সহায়তায় নিয়মিতভাবে স্কুলের খাবারে ডিম দেওয়া হয়। যদিও মহারাষ্ট্রে সরকারি অনুদান প্রত্যাহারের পর স্কুলগুলিকে নিজেদের উদ্যোগে অর্থ জোগাড় করে ডিম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, দিল্লি এবং ত্রিপুরার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রধানমন্ত্রী পোষণ (PM POSHAN) প্রকল্পের আওতায় ডিম পরিবেশনের কোনও অভিন্ন নীতি নেই। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পে সাধারণত ৬০:৪০ অনুপাতে খরচ বহন করা হয়। এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা যায় বহু অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যে। কর্নাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, মিজোরাম এবং একাধিক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও স্কুলের পুষ্টি কর্মসূচিতে নিয়মিত ডিম দেওয়া হয়। এই রাজ্যগুলির মতে, ডিম কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিতর্কের বিষয় নয়, বরং শিশুদের অপুষ্টি রোধে কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।
দক্ষিণ ভারতের সব রাজ্যেই ডিম চালু
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একাধিক রাজ্যে ডিম সরানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে কংগ্রেস সরকারের আমলে ছত্তিশগড়ে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়িতে ডিম দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০২৩ সালে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের সরকার কেন্দ্রকে জানায়, ডিমের পরিবর্তে মিলেট-ভিত্তিক পুষ্টি কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হবে। গোয়াতেও ২০২২ সালে ডিম চালু হলেও সামাজিক ও ধর্মীয় আপত্তির মুখে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ সরকারের আমলে ডিম চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু সরকার বদলের পর তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে দক্ষিণ ভারতের ছবি একেবারেই আলাদা। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল ও তেলঙ্গানায় সরকার বদলালেও স্কুলের খাবারে ডিম দেওয়া বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে কর্নাটকে বিজেপি সরকার সমালোচনার মুখেও ডিম পরিবেশন চালু রেখেছিল। পরে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে সেই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করে। অন্যদিকে পুষ্টিবিদ ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, শিশুদের জন্য ডিম সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্রোটিনের উৎসগুলির একটি। জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের প্রোটিনের জৈব-উপলব্ধতা প্রায় ৯৪ শতাংশ, যেখানে ছোলা থেকে তা প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং সয়াবিনে প্রায় ৫৪ শতাংশ। পাশাপাশি ডিমে রয়েছে শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।