নতুন ভোটারের নাম তোলার ফর্ম নিয়ে কোথায় আপত্তি, জানুন। বাংলার নির্বাচনের সময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফর্ম ৬ (Form 6)। সেই ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন ঘিরে এবার নতুন করে বিতর্ক। ইংরেজি দৈনিকের খবর, ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের ভিতরেই উঠেছিল আপত্তি। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী আপত্তি জানিয়ে নোট পাঠিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ ঠিক কী বদল আনা হয়েছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বৈধ ভোটার হওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ফর্ম ৬ ভরতে হয়। তাতে এমন একটি প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে, যা আগে কখনও ছিল না। নতুন ভোটারকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তিনি বা তাঁর বাবা-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুরমা/দাদু-দিদার নাম শেষ এসআইআর ভোটার তালিকায় ছিল কিনা। ফর্ম ৬-এ এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ওই নতুন Declaration Part যোগ করা হয়েছিল। সেখানেই তিনটি প্রশ্নের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে। ওই প্রশ্নের উত্তর না দিলে আবেদনপত্রের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
ফর্ম ৬-এ কী বদল?
আগের এসআইআরের আপনার নাম ভোটার তালিকায় ছিল?
বাবা-মা, দাদু-দিদি/ঠাকুরদা-ঠাকুরমার নাম ছিল?
আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের কারও নাম কি ছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক (Non-Mandatory) ছিল না। তবে অনেকেই দাবি করেন, ওই প্রশ্নের উত্তর না দিলে ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।
কমিশনেই ভিন্নমত!
ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, মে মাসেই নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী সতর্ক করেছিলেন, সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট নিয়ম সংশোধন না করে এভাবে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করা যায় না। তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধুও। তাঁর মত ছিল, এই ধরনের অসম্পূর্ণ ও অনুমোদনহীন বিষয় যুক্ত হলে তরুণ এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এমনকি তাঁরা ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ওই পরিবর্তন করা হয়।
'আইনবিরুদ্ধ'
এই পরিবর্তন নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারই একাধিক আইনি আপত্তি জানিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত এবং প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসাও ওই আপত্তিগুলিকে সমর্থন করেছেন। আইনি ও বাস্তব, দুই দিক থেকেই তাঁদের আপত্তি। তাঁদের বক্তব্য, ফর্ম ৬ একটি বিধিবদ্ধ ফর্ম। Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী, ফর্মে কোনও পরিবর্তন আনতে হলে আইনমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি এবং অফিসিয়াল সংশোধন প্রয়োজন। কমিশন ইচ্ছামতো বদল করতে পারে না। ওপি রাওয়াত এও মনে করেন, এই প্রক্রিয়া ভোটারদের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। যা গণতন্ত্রের পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক।
কমিশনের ব্যাখ্যা
তবে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক সংস্থায় মতভেদ স্বাভাবিক। ভোটার তালিকায় সংশোধন সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।