
মুম্বই ধারাভিমধ্য মুম্বইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ধারাভি বস্তি। এর মধ্যে বসবাস প্রায় ১২ লক্ষ মানুষের। নীল রঙা পলিথিনে মোড়া হাজার হাজার ঝুপড়ি। এখানে কেউ ব্লু কলার কর্মী, কেউ নিরাপত্তারক্ষী, গৃহকর্মী, ক্যাব চালক, অটোরিকশা চালক, ইডলি-কফি বিক্রেতা, মাটির পাত্র প্রস্তুতকারক, স্ক্র্যাপ ডিলার, ব্যাগ কিংবা জুতোর কারিগর, চামড়ার কারিগর এবং অসংখ্য অন্যান্য পেশার মানুষের বাস এই ধারাভিতে।
একতলা থেকে দোতলায় উঠতে লাগে মই, নেই সিঁড়ি। বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা নেই। গলিতে আবর্জনা, দুর্গন্ধময়। নামে বস্তি হলেও, এখানকার অর্থনীতি টেক্কা দিতে পারে একাধিক ছোটখাটো দেশকে। নানারকম কাজ চলে এই বস্তির ভিতরে।
চামড়ার জিনিসে, মৃৎশিল্পের পাশাপাশি বাতিল এবং পুরনো জিনিস, ধাতু, প্লাস্টিক, কাগজ, মরচে পড়া চামচ থেকে শুরু করে সবই বেচাকেনা চলে এখানে।

ধারাভির ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি, যা মুম্বইকে শক্তিশালী করে, তারা দক্ষিণ মুম্বইয়ের ব্যালার্ড এস্টেটের অভিনব বোর্ডরুম এবং সংলগ্ন বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের (বিকেসি) বিলাসবহুল অফিসগুলির সামনে অবস্থিত। মনে হতেই পারে ধারাভির মতো জায়গায় সবকিছুই সস্তা। কিন্তু তা নয়। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তিতে বাণিজ্যিক অফিসের ভাড়া মাসে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বস্তিতে রয়েছে ভাড়া করা পায়রার খোপের মতো ঝুপড়িও। এর জন্য কোনও পুলিশি যাচাই নেই। ১০০ বর্গফুটের জায়গার জন্য মাসে ৩,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার ভাড়া দিতে হয় ঘরের মালিকদের। মুম্বইয়ে প্রায় ১,২০০-১,৩০০ বর্গফুটের একটি টু বিএইচকে অফিসের দাম লক্ষ লক্ষ টাকা। মুম্বইয়ের মান অনুযায়ী প্রায় ১,৮০০ বর্গফুটের একটি থ্রি বিএইচকের দাম মাসে ৫ লক্ষ টাকা। বস্তি হয়েও, সোনার দামে বিক্রি, ভাড়া।
মুম্বইয়ের সাতটি শহরতলিতে বিস্তৃত - বান্দ্রা, মাহিম, মাতুঙ্গা, সিওন, কুরলা, চুনাভট্টি, গুরু তেগ বাহাদুর নগর এবং কিংস সার্কেল থেকে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সাকি নাকা এবং কুরলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ধারাভি বস্তি, কার্যত মিনি ভারত। এই বস্তি এখন মুম্বইতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ হয়ে উঠছে। এই ধারাভি থেকে দেশের অর্থনীতির অনেকটা অংশ উঠে আসে। যে কারণে এই বস্তিতে তিন কামড়ার অফিস নিতেও ট্যাঁকের জোর থাকতে হয়।