
নয়ডাতে পুলিশ নয়ডাতে গত তিন ধরে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছিল, তবে আজ সোমবার তা ভয়াবহ চেহারা নেয়। রাস্তা অবরোধ করেন শ্রমিকরা। চলে ভাঙচুরও। ফলে বিপুল যানজটের সৃষ্টি হয় দিল্লি-নয়ডা সীমানায়। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। রাস্তায় নেমে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষ।
আজ নয়ডায় কী হল?
নয়ডার বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার কর্মচারীরা আজ রাস্তায় নামেন। জায়গায় জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুরও চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামে পুলিশ। তাদের তরফে বোঝানোর চেষ্টা হলেও রণে ক্ষান্ত দেননি কর্মীরা। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকে। অভিযোগ, রবিবার রাতে সরকার তাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিলেও সকাল থেকে সহিংস চেহারা নেয় আন্দোলন। তার জেরে হাজার হাজার যাত্রী রাস্তায় আটকে পড়েন। গাড়ি চলাচল ব্যহত হয়।
কেন এমন বিক্ষোভ?
নয়ডার কর্মীদের বিক্ষোভের নেপথ্যে তাঁদের দাবি। বেতন বৃদ্ধি করতে হবে- এই দাবিতে তিনদিন ধরে সরব হয়েছেন কর্মীরা। সরকার কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জানিয়েছে, সরকার সব সময় কর্মীদের সঙ্গে আছে। তাঁদের যাতে অর্থনৈতিক শোষণের মুখে পড়তে না হয়, তা সরকার নিশ্চিত করবে।
তবে তারপরও সহিংস আন্দোলন হচ্ছে। তার মূলে রয়েছে কর্মচারীদের এমন কতগুলো দাবি যেগুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নয়ডার ফেজ টু, যেখানে হোসিয়ারি কমপ্লেক্স আছে সেখানে ১০০-র বেশি কোম্পানি আছে। সেখানেই মূলত আন্দোলনের শিকড়। ইকোটেক থার্ডের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিহার এলাকাতেও ১০০টিরও বেশি কোম্পানি রয়েছে। যেখান থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। ওই দুই জায়গা থেকে ৫০০-র বেশি কর্মী বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।

তাঁদের প্রধান দাবি হল, মাসে কমপক্ষে ২৬ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে, ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ পারিশ্রমিক বাধ্যতামূলক, কাজের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না, সপ্তাহে একদিন ছুটি বাধ্যতামূলক, সময় মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতন জমা করতে হবে, শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মীদের অভিযোগ, প্রায় সব কোম্পানি তাঁদের মজুরি খুব কম দেয়। দিনে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। বিনিময়ে কাজ করতে হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। দিনের পর দিন তাঁদের ছুটি ও বোনাসও কেটে নেওয়া হয়।
কোন কোন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার?
কর্মীদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন ঢুকবে অ্য়াকাউন্টে। বেতন স্লিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক। উৎসবের জন্য দেওয়া হবে বোনাস। দিপাবলীর পর ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে বোনাস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
উত্তরপ্রদেশের শ্রম বিভাগের প্রধান সচিব জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সুবিধার জন্য নতুন শ্রম আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা, সময়মতো ও সম্পূর্ণ মজুরি প্রদান, সমান কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ পারিশ্রমিক, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, শোষণ প্রতিরোধ, সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদি।