আদৌ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন বিজয়?বিজয় কি আদৌ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন? এখন এই প্রশ্নই উঠছে তামিলনাড়ুর সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে।
আসলে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবিতে শুক্রবার টানা তৃতীয়বার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকারের সঙ্গে দেখা করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। রাজনৈতিক মহল মনে করছিল, তাঁর দল টিভিকে সরকার গঠনের জন্য অবশেষে ১১৮-এর ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। কংগ্রেসের ৫, বাম দলের ৪ এবং আইউএমএল ও ভিসিকে-এর সম্ভাব্য সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছিল।
কিন্তু রাত বাড়তেই আবার নতুন রাজনৈতিক নাটক। লোক ভবনের সূত্র জানিয়েছে, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করেছে ঠিকই। সেই সংখ্যাটা এখনও যথেষ্ট নয় বলে জানান হয়েছে।
সূত্রের দাবি, শুক্রবার বিজয় ১১৭ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি জমা দেন। এর মধ্যে ছিল টিভিকে-এর ১০৭ জন বিধায়ক। যদিও দলটি ১০৮টি আসন জিতেছে, বিজয় নিজে জেতা দু’টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়বেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। যেই কারণে তাঁর দলের বর্তমান শক্তি দাঁড়াচ্ছে ১০৭। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কংগ্রেসের ৫ জন, বামফ্রন্টের ৪ জন এবং এএমএমকে-র ১ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠিও জমা দেন।
রাজ্যপাল-বিজয় বৈঠকে নতুন নাটক
বিজয় শনিবার সকাল ১১টায় শপথ গ্রহণের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই এএমএমকে-এর সাধারণ সম্পাদক টিটিভি ধিনাকরণ রাজ্যপালকে ফোন করে খেলা ঘুরিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজয়ের পক্ষে জমা দেওয়া এএমএমকে-এর একমাত্র বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা রয়েছে।
এরপরই টিভিকে ওই বিধায়ক কামারাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা যাচ্ছে।
এর ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই কামারাজ চেন্নাইয়ে প্রকাশ্যে আসেন। ধিনাকরণের সঙ্গে তিনি রাজ্যপালের কাছে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন টিভিকে 'ঘোড়া কেনাবেচা' বা বিধায়ক ভাঙানোর চেষ্টা করছে। সেখানেই কামারাজ দাবি করেন, টিভিকে-এর জমা দেওয়া স্বাক্ষর তাঁর নয়। ধিনাকরণ আরও জানান, এএমএমকে দৃঢ়ভাবেই এনডিএ-এর সঙ্গেই রয়েছে।
এর ফলে বিজয়ের সমর্থন সংখ্যা কার্যত ১১৬-তে নেমে আসে। আর এটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে দু'টি সিট কম।
এর মধ্যেই টিভিকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেই ভিডিওতে দাবি হয় যে কামারাজ নিজে বিজয়কে সমর্থনের চিঠি লিখছেন।
ভিসিকে-এর ভূমিকায় আরও জট
তবে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটক এখানেই থামেনি। লোক ভবনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএমকে জোটের অংশ ভিসিকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের কাছে কোনও সমর্থনের চিঠি জমা দেয়নি।
যদিও খবর ছড়ায় যে ভিসিকে ইমেলের মাধ্যমে সমর্থন পাঠিয়েছে। কিন্তু রাজ্যপালের দফতর জানায়, এমন কোনও ইমেল তারা পায়নি।
শুক্রবার ভিসেকে অভিযোগ করেছিল, বিজয় ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেননি। শুধু হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে সমর্থন চাইছেন। এটা অহংকারী আচরণ।
রাতের দিকে আইইউএমএল-ও জানিয়ে দেয়, তারা বিজয়কে কোনও সমর্থন দেয়নি। ডিএমকে-এর সঙ্গেই রয়েছে।
ফলে স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজয়ের কাছে এখনও পর্যাপ্ত সংখ্যা নেই। তাই শনিবার শপথ গ্রহণও হচ্ছে না।
লোক ভবনের সূত্রে খবর, রাজ্যপাল বিজয়কে জানিয়েছেন ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে এলে তাঁকে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হবে।