ডিলিমিটেশন সেরেই আসন বেড়ে ৮১৬? ২০২৯-এর মধ্যেই সংসদে বড় বদলের প্ল্যান কেন্দ্রেরডিলিমিটেশনের পরেই বড় বদল হতে পারে সংসদে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা দেশের রাজনীতিতে। সংসদে যে আসন যে বাড়বে জানাই ছিল। মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই নতুন বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল। এবার সেই লক্ষ্যপূরণেই আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ লাগু করতে চলেছে নয়াদিল্লি। এর আগেই অবশ্যই 'নারী শক্তি বন্দন আইন' পাস হয়েছে। তবে এখনও বাস্তবে তা লাগু হয়নি। সেই প্রেক্ষিতেই এবার সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, এই সংশোধনী বিলে আসন পুনর্বিন্যাস (delimitation) এবং লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনাকেই ভিত্তি ধরা হতে পারে। এই বিল পাস হলে লোকসভা আসন বেড়ে ৮১৬ হয়ে যেতে পারে। বর্তমান ৫৪৩টি আসন রয়েছে। নতুন নিয়মে, ৮১৬টির মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নতুন আদমসুমারি ও ডিলিমিটেশনের পরেই এই সংরক্ষণ লাগু হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় এতদিন বাস্তবে এই আইনটি লাগু হয়নি। এবার সংশোধনী এনে সেই জট কাটাতে চাইছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সংরক্ষণ বাস্তবায়িত করা।
কেবল সংশোধনী বিলই নয়, এর পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের পথেও হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। কারণ, ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে আসন সংখ্যা বাড়াতে গেলে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই একাধিক আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতেও উদ্যোগী কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির) ও এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র নেতাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। প্রথম পর্যায়ে ছোট ও মাঝারি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তবে কংগ্রেস-সহ বড় বিরোধী দলগুলির সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত আলোচনা বাকি।