লোকসভা মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হল না। মোট তিনটি বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয় লোকসভায়। এই বিল পাশ করার জন্য দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন দরকার ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের।
এদিনের ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি। বিলটি পাশ করাতে শাসক NDA-র প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোট। মোট ৪৮৯ জন সাংসদ এই ভোটাভুটিতে অংশ নেন।
এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন জনগণনা ছাড়া ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং বিধানসভা ও সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন, 'মহিলাদের অধিকার দেওয়া হল না। এটা খুব লজ্জার বিষয়। তবে আমরা অধিকার দেবই। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এরপরই লোকসভা অধিবেশন শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই বিল আর যাবে না রাজ্যসভায়। এই সংক্রান্ত আর কোনও ভোট হবে না।
এদিকে বিলে সমর্থন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ INDIA-এর শরিক দলগুলি। মহিলা সাংসদরা বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন। সংসদের মকর দ্বার থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা হয়। আগামীকাল অর্থাৎ ১৮ এপ্রিল থেকে ইন্ডিয়া জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলির নেতাদের বাড়ির সামনে গিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানো হবে।
রাহুল গান্ধী বলেন, সংশোধনী বিলটি খারিজ হয়েছে। মহিলাদের নাম করে সংবিধান ভাঙার জন্য অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। তবে লোকসভা তা মানেনি। এটা সংবিধানের জয় আসলে।'
প্রসঙ্গত, এই বিল নিয়ে বিরোধীরা অপপ্রচার করছে। এমনটা আগেই অভিযোগ করেছিল বিজেপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় নিজেদের বক্তব্যে এই বিল নিয়ে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন।
মোদী বলেছিলেন, 'মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যেন আমরা হাতছাড়া না করি। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে জাতীয় স্বার্থে এই বিলকে দেখুন।'
একই সুরে অমিত শাহ সংসদকে আশ্বস্ত করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে প্রায় ৮১৬ করা হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে বা সামান্য বৃদ্ধি পাবে।