ভারতের জিডিপিমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি সবে ঘোষিত হয়েছে। এখনও অস্থিরতা রয়েছে গোটা বিশ্বে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ভারতের অর্থনীতিও এই যুদ্ধের প্রভাবে বিপদে পড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পৃথিবীর তাবড় সব দেশের অর্থনীতি এই যুদ্ধের জন্য ঝামেলায় পড়তে পারে। কিন্তু ভারতের উপর এর প্রভাব পড়বে কম। এমনকী বিশ্ব ব্যাঙ্কও এই বিষয়টি নিয়েও একই মত দিয়েছে। এই সংস্থার পক্ষ থেকে ভারতের জিডিপি ফোরকাস্ট উল্টে বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি গ্রোথ হতে পারে ৬.৬ শতাংশ হারে। আর এই খবরেই খুশির হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, ভারত আবারও প্রমাণ করল যে বিশ্বে যতই ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, আমাদের অর্থনীতি বাড়বে।
বিশ্বের অশান্তি মধ্যে ভাল খবর
এপ্রিল ২০২৬-এ বিশ্ব ব্যাঙ্ক বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার ইকোনোমিক আপেডট প্রকাশ করেছে। সেখানে জানান হয়েছে, এই চলতি আর্থিক বছরে ভারতের ফিনান্সিয়াল গ্রোথ হতে পারে ৬.৬ শতাংশ।
অক্টোবর ২০২৫, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল যে ভারতের অর্থনীতি ৬.৩ শতাংশ হারে এগিয়ে যেতে পারে। তবে সেই গ্রোথ রেট এবার বাড়িয়ে দিল সরকার।
যদিও ইকোনোমিক গ্রোথ রেট অবশ্য কমিয়েছে সংস্থা। এই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে যে, ৭.৬ শতাংশ হারে হয়তো এবার ভারতের ইকোনমি বাড়বে না।
সতর্কও করছে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক
বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ভারতের জিডিপি বাড়বে। অন্য সব সমস্যাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ। যদিও এই আনন্দ সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি খারাপ খবরও শুনিয়ে রেখেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক।
এই সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, বিশ্বে বাড়ছে জ্বালানির খরচ। তার ফলে ভারতের মানুষের খরচ করার প্রবণতা কমে যেতে পারে। সেটা বাড়াতে পারে বিপদ।
সরকারও অবশ্য এই বিষয়টা শিকার করে নিয়েছে। তাদের মতে, চাহিদা কমতে পারে ঘরোয়া মার্কেটে। যার প্রভাব কিছুটা হলেও অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান
কথা ছিল যুদ্ধবিরতির পর খুলে দেওয়া হবে হরমুজ। তবে তেমনটা হল না। বরং যুদ্ধবিরতির একদিনের মধ্যেই আবার বন্ধ করা হল হরমুজ। ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির চুক্তি মানেনি আমেরিকা ও ইজরায়েল। তারা লেবাননে এখনও আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকী ইরানেও হয়েছে ড্রোন হামলা। যার ফলে তারা আবার বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এমতাবস্থায় আবার যুদ্ধপরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেটা সারা পৃথিবীর জন্যই ভাল কিছু নয়। এতে গোটা বিশ্বেই তেলের দাম বাড়তে পারে। যার ফলে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি।