জিনপিং ((Photo: ITG)ধোঁয়াশা কাটল। নয়াদিল্লির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একে একে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের ভারতে আসার খবর নিশ্চিত হলেও চিনের প্রধান আসবেন কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি বৃহস্পতিবার সকালেও। তবে দুপুরে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, জিনপিং ভারত সফর করবেন।
আজ চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের তরফে এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তাও দেওয়া হয়। সেখানে লেখা হয়, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।'
ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যোগ দেবেন, সেই তথ্য আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তবে জিনপিং আসবেন কি না তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কোনও তথ্য দেয়নি।
তারই মধ্যে বেজিংয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিক জানতে চান, এই সপ্তাহে ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট যোগ দেবেন কি না। জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, 'আপনার প্রশ্নের বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কাছে দেওয়ার মতো কোনও তথ্য নেই।'
সূত্রের দাবি, এই সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করতে পারেন জিনপিং। এই বৈঠক হলে তার গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এটিই হতে পারে প্রথম মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
সাত বছর পর ভারতে আসছেন জিনপিং
শি জিনপিং শেষবার ভারত সফর করেছিলেন ২০১৯ সালে। সেই হিসেবে এবার তিনি ভারতে এলে প্রায় সাত বছর পর তাঁর দেশে আসা হবে। ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক হয়েছিল।
তারপরের বছরই গালওয়ান উপত্যকায় ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই দেশের সম্পর্কের বড় অবনতি হয়। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ভারত-চিন সম্পর্কের উপর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। যদিও পরবর্তী সময়ে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দুই দেশ একাধিক বৈঠকও করেছে।
সম্প্রতি মুখোমুখি হলেও বৈঠক হয়নি
এর মধ্যেই সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংকে। সেখানে দুই নেতা পরস্পরের সঙ্গে হাতও মেলান। তবে সেই সফরে দুই নেতার মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-জিনপিং বৈঠক হলে সেটিই হবে গালওয়ানের পর দুই রাষ্ট্রনেতার প্রথম সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা।