AI সামিটে কংগ্রেসের প্রোটেস্টশুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন যুব কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। শনিবার তাঁদের তোলা হয় পাটিয়ালা হাউস কোর্টে। আর সেখানেই তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।
এই মামলার শুনানির সময় বিরাট বড় অভিযোগ করে দিল্লি পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে যুব কংগ্রেসের এই কর্মীরা আদতে নেপালের জেন জি মুভমেন্ট দ্বারা অনুপ্রাণিত। এর পিছনে রয়েছে 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র'।
পুলিশের আরও কী দাবি?
দিল্লি পুলিশ মনে করছে, এর পিছনে বড় কোনও ছক থাকতে পারে। তাই তারা ধৃতদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে সওয়াল করে। শুধু তাই নয়, এই বিক্ষোভের পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটাও দেখতে চাইছে তারা। এমনকী কারা এই কর্মীদের অর্থ সাহায্য করেছে, সেটাও খুঁজে বের করতে চাইছে।
মাথায় রাখতে হবে, ভারত মণ্ডপমের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের টিশার্টে লেখা ছিল বিভিন্ন স্লোগান। যেমন ধরুন- 'পিএম ইজ কম্প্রোমাইজড', 'ইন্ডিয়া ইউএস ট্রেড ডিল', 'এপস্টিন ফাইল' ইত্যাদি বিষয়গুলি লেখা ছিল। পাশাপাশি টিশার্টে ছিল ভারতের প্রধামন্ত্রী মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিও ছিল। আর পুলিশ চেষ্টা করছে, এই টি শার্ট বানানোর খরচ কে বা কারা মেটাল, সেটা খোঁজার।
কী ঘটে?
পুলিশ সূত্রে খবর, ন্য়াশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া, যা কি না কংগ্রেসের একটি ছাত্র সংগঠন, তার ১০ কর্মী ভারত মণ্ডপমে ঢুকে পড়েন। এখানেই এআই সামিট চলছে। সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা খুলে ফেলেন নিজেদের টি শার্টও।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। তাঁরা ৪ যুব কংগ্রেস কর্মীকে আটক করে। তাঁদের শনিবার তোলা হয় পাটিয়ালা হাউজ কোর্টে। ৫ দিনের হেফাজত চাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। যদিও ধৃতদের আইনজীবী পুলিশের এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, এই প্রতিবাদ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কাউকেই আঘাত করা হয়নি। উল্টে প্রতিবাদীদের হেনস্থা করা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে যে এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়েছে দেশের রাজধানীর রাজনীতি। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল থেকে ভূপেন্দ্র যাদব, সবাই এর নিন্দা করেন। এমনকী বিজেপির পক্ষ থেকে এই ধরনের আচরণকে দেশ বিরোধী বলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়।
আবার বিজেপির ছাত্র সংঠগনও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঠে নেমে পড়েছে। তাদের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরের সামনে দেখানো হয় বিক্ষোভ। যদিও কংগ্রেস এই ঘটনায় নিজের কর্মীদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।