
ঝকঝকে তকতকে ফ্ল্যাট কিংবা সুন্দর করে সাজানো ঘর। কিন্তু দিনের শেষে ঘুম আসছে না? সারাক্ষণ মেজাজ খিটখিটে, মাথা ব্যথা কি নিত্যসঙ্গী? বাস্তুবিদরা বলছেন, আপনার শোয়ার ঘরের সাজসজ্জাতেই হয়তো লুকিয়ে আছে বড় কোনো 'দোষ'।

বিশেষ করে যদি আপনার খাটের ঠিক সামনেই শৌচাগারের দরজা থাকে, তবে তা বাস্তুশাস্ত্রে এক মারাত্মক নেতিবাচক যোগ তৈরি করে। একে বলা হয় 'রাহু'র কু-প্রভাব, যা কেবল স্বাস্থ্য নয়, আপনার দাম্পত্য সুখের পথেও বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কেন এটি অশুভ?
বাস্তুশাস্ত্রমতে, শৌচাগার হলো আর্দ্রতা এবং অশুদ্ধ বায়ুর উৎস। যেখানে শোয়ার ঘর হলো বিশ্রামের জায়গা, সেখানে বাথরুম থেকে আসা নেতিবাচক কম্পন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

এর ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা কিংবা হাড়ের ব্যথা বাড়তে পারে। অকারণ মানসিক উত্তেজনা বা বিরক্তি দানা বাঁধে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ কারণে অশান্তি ও দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ভাঙাভাঙি ছাড়াই মুক্তি: সহজ কিছু টোটকা
অনেকেই ভাবেন বাস্তুদোষ মানেই বাড়ি ভাঙচুর। কিন্তু বর্তমান যুগের বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনেই এই নেতিবাচক শক্তি রুখে দেওয়া সম্ভব। কী করবেন?

কাজ মিটে গেলেই বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখুন। যাতে ভেতরের ভারী বাতাস বাইরে না আসতে পারে। বাথরুমের দরজায় একটি গাঢ় রঙের মোটা পর্দা ঝুলিয়ে দিন। এটি নেতিবাচক শক্তির সামনে বর্মের মতো কাজ করবে।

একটি কাঁচের পাত্রে সামুদ্রিক নুন ভরে বাথরুমের এক কোণে রেখে দিন। এটি পরিবেশের বিষাক্ত আর্দ্রতা শুষে নেবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই নুন বদলে ফেলুন। বাথরুমের দরজার বাইরের দিকে একটি আয়না লাগান। এটি ঘরে ঢোকা নেতিবাচক শক্তিকে প্রতিফলিত করে বাইরে পাঠিয়ে দেবে।

ঘরে পজিটিভ এনার্জি বাড়াতে লেমনগ্রাস তেল বা কপূর ব্যবহার করুন। বাথরুমেও সুগন্ধি মোমবাতি রাখতে পারেন। অন্ধকার বা গুমোট বাথরুম অশুভ শক্তির আঁতুড়ঘর। তাই বাথরুমে সাদা এলইডি বা প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা রাখুন। সম্ভব হলে ধাতুর বদলে কাঠের দরজা ব্যবহার করুন, যা শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে।