
যদি আপনার বাড়িতে কোনও কিছুর দীর্ঘমেয়াদী ছায়া পড়ে তাহলে সেটাকে বাস্তু দোষ হিসেবে ধরা হয়। ছায়া ছিদ্রের কারণে অগ্রগতি, সাফল্য ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ক্রমাগত বাধা পড়ে। ছায়া কতটা অশুভ তা নির্ভর করে ছায়ার ছিদ্র কী ধরনের, তার ওপর। আরও জানুন কীভাবে ছায়া ছিদ্র গঠিত হয় এবং এর প্রভাবগুলি কী কী...

ছায়া ছিদ্র কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে?
ঘরের উপর ছায়া পড়লে অশুভ হয় না, কারণ এটা নির্ভর করে কী ধরনের ছায়া এবং কতক্ষণ তার ওপর। কোনও বস্তুর ছায়া যদি আপনার বাড়িতে প্রায় ছয় ঘণ্টা পড়ে তাহলে সেটাকে ছায়া ছিদ্র বলে ধরা হয়। বাস্তুশাস্ত্রে প্রধানত পাঁচ প্রকার ছায়া ছিদ্রের কথা বলা হয়েছে— মন্দির, গাছ, ভবন, পর্বত, পতাকা। চলুন এগুলির ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

মন্দির ছায়া ভেদ: ঘরের কাছে একটি মন্দির থাকতে সবাই পছন্দ করে কারণ এটি পরিবেশকে ইতিবাচক রাখে, তবে মন্দিরের ছায়া আপনার বাড়ির উপর পড়লে ক্ষতিকারকও হতে পারে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনও মন্দিরের ছায়া ঘরে পড়লে তা ছায়া ছিদ্র হয়ে যায়। এ কারণে বিয়ে ও সন্তান পেতে বিলম্ব, ব্যবসায় ক্ষতি ও পারিবারিক কলহের সম্মুখীন হতে হয়।

একটি মন্দিরের কাছে ১০০ ফুট নীচে নির্মিত ধোয়া ছায়া ছিদ্র: ঘরগুলি ধ্বজা ছায়া ছিদ্রের ভিতরে আসে, তবে যদি মন্দিরের উচ্চতা কম হয় এবং এর পতাকার ছায়া বাড়ির উপর না পড়ে তবে এই ছায়া ছিদ্র বৈধ নয়। এর কোনও প্রভাব নেই। যদি পতাকার দ্বিগুণ উচ্চতা রেখে একটি বাড়ি তৈরি করা হয়, তবে কোনও বাস্তু ত্রুটি নেই।

পাহাড়ের ছায়া ছিদ্র: পাহাড়, উঁচু ঢিবি ইত্যাদির ছায়া কারো বাড়ির পূর্ব দিকে পড়লে তা ছায়া ছিদ্রের আওতায় আসে। এতে পরিবারের সদস্যদের সফলতা যেমন বাধাগ্রস্ত হয় তেমনি প্রতিপত্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ছায়া পূর্বদিকে ছাড়া অন্য দিকে কোন প্রভাব ফেলে না।

উঁচু দালানের ছায়া ছিদ্র: যদি কোনও বড় বাড়ি, উঁচু দালান ইত্যাদির ছায়া আপনার বাড়ির ওপর পড়ে তাহলে তা ছায়া ছিদ্র হতে পারে। যদি এই ছায়া আপনার বাড়ির আশেপাশের বোরিং বা কূপ ইত্যাদিতে পড়ে, তবে এই ছায়াটি ছিদ্রের ভিতরে চলে আসে। এ কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে হতে পারে।

গাছের ছায়া ছিদ্র: যদি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে কোনও গাছের ছায়া আপনার বাড়িতে পড়ে, তবে তা খুবই অশুভ বলে মনে করা হয়, তবে দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। বাড়ির অগ্নিদৃষ্টিতে ভাত, পিপল, সেমল, পাকড় ও গুলার গাছ থাকলে জীবনে ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণে জীবন বিপন্ন হতে পারে।

এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র অনুমান এবং বাস্তুশাস্ত্রে বলা তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, bangla.aajtak.in কোনও ধরনের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারকে সমর্থন করে না। কোনও তথ্য বা অনুমান প্রয়োগ করার আগে, অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।