
হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিন অমাবস্যা পড়ে। পৌরাণিক বিশ্বাস মতে, এই দিন স্নান, দান, মৃত আত্মীয়ের নাম জপ এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে প্রার্থনা করা শুভ বলে বিবেচিত হয়। এমনটা করলে পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি এবং তাঁদের আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস হিন্দুদের।
জ্যোতিষীদের মতে, সোমবার বা শনিবার অমাবস্যা পড়লে এর তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। সোমবার যে অমাবস্যা পড়ে, তাকে বলা হয় সোমবতী অমাবস্যা। শনিবার যে অমাবস্যা পড়ে, তাকে বলা হয় শনিশ্চরি অমাবস্যা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অমাবস্যা কোন কোন দিন পড়েছে?
মাঘ অমাবস্যা (মৌনি অমাবস্যা): ১৮ জানুয়ারি
ফাল্গুন অমাবস্যা: ১৭ ফেব্রুয়ারি
চৈত্র অমাবস্যা: ১৯ মার্চ
বৈশাখ অমাবস্যা: ১৭ এপ্রিল
জৈষ্ঠ্য অমাবস্যা: ১৬ মে
জৈষ্ঠ্য অমাবস্যা: ১৫ জুন
আষাঢ় অমাবস্যা: ১৪ জুলাই
শ্রাবণ অমাবস্যা: ১২ অগাস্ট
ভাদ্রপদ অমাবস্যা: ১৭ ডিসেম্বর
অশ্বিন অমাবস্যা: ১০ অক্টোবর
কার্তিক অমাবস্যা: ৯ নভেম্বর
মার্গশীর্ষ অমাবস্যা: ৮ ডিসেম্বর
অমাবস্যার দিনে কেন গঙ্গাস্নান করা হয়?
অমাবস্যা তিথিতে গঙ্গাস্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এই দিনে চাঁদের প্রভাব কম থাকে এবং নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়। বিশ্বাস করা হয়, গঙ্গার জলে স্নান করলে এই নেতিবাচক প্রভাবগুলি ধ্বংস হয় এবং মন, শরীর এবং চিন্তাভাবনা পবিত্র হয়। অমাবস্যাকে পূর্বপুরুষের দিনও মনে করা হয়, তাই এই দিনে গঙ্গায় স্নান, জল অর্পণ এবং কর্পণ করলে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ আসে এবং পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে।
২০২৬ সাল অত্যন্ত পবিত্র। কারণ মাধ মেলা হবে নতুন বছরের প্রথম উৎসব। তাছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম অমাবস্যার দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই সময়কালে প্রয়াগরাদে একটি বিশাল রাজকীয় স্নান অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন অমাবস্যা তিথি যা মাঘ অমাবস্যা বা মৌনি অমাবস্যা নামেও পরিচিত। ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারিতেই পড়তে এই পবিত্র দিনটি। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তারিখটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হবে।