Aniruddhacharya Speech: 'রাবণের মতো অবস্থা হবে...' পুরুষদের কেন সতর্ক করলেন অনিরুদ্ধার্য?

অনিরুদ্ধাচার্যের বক্তব্য, এই ধরনের সম্পর্কে জড়ানোর আগে তরুণদের বোঝা উচিত, অপর ব্যক্তিটি সত্যিই তাদের ভালোবাসে নাকি কোনও স্বার্থের কারণে সঙ্গে আছে। তিনি তরুণদের পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্মজীবনে মনোনিবেশ করার জন্য আহ্বান জানান। তবে, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, তিনি স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের পক্ষে নন এবং কোনও বাইরের ব্যক্তিরও দাম্পত্য সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

Advertisement
'রাবণের মতো অবস্থা হবে...' পুরুষদের কেন সতর্ক করলেন অনিরুদ্ধার্য? অনিরুদ্ধাচার্য- পঞ্চায়েত আজতক
হাইলাইটস
  • প্রেম ও পড়াশোনা নিয়ে পরামর্শ
  • বিয়ের আগে ও পরে চরিত্র পবিত্র রাখা উচিত
  • যখন দুটি চাকাই ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, তখনই গাড়িটি সামনে এগোয়

'পঞ্চায়েত আজতক'-এর 'মেরে গিরিধর গোপাল' সেশনে কর্ম, বিনামূল্যের রাজনীতি, যুবক-যুবতীদের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে ও ক্রমবর্ধমান গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে একাধিক প্রবচন দিলেন অনিরুদ্ধাচার্য মহারাজ। অনিরুদ্ধাচার্যের প্রচুর ভক্ত। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর প্রবচনের ভিডিও ভীষণ জনপ্রিয়। এদিন 'পঞ্চায়েত আজতক'-এর মঞ্চে অনিরূদ্ধাচার্যের জানালেন. জীবনে সাফল্য পেতে গেলে কর্ম করা উচিত। সব কিছু ফ্রি-তে পাওয়ার অভ্যাস আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। 

অনিরুদ্ধাচার্যের কথায়, 'বর্তমান সমাজে পরিশ্রম না করে ফ্রি-তে সব কিছু পাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।  কর্মই প্রধান। কাজ না করলে খাবেন কী?' ভাতার রাজনীতির সমালোচনাও করেন তিনি। মা-বাবাদের  অনিরুদ্ধাচার্যের উপদেশ, 'ছোট শিশুকে সব সময় সাহায্য করা ঠিক নয়। সন্তান হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাবে, উঠবে, ফের হাঁটবে, তবেই তো শারীরিক ভাবে সুঠাম হবে। তেমনই ফ্রি পরিষেবার উপর নির্ভর না করে, আত্মনির্ভরতা প্রয়োজন।'

প্রেম ও পড়াশোনা নিয়ে পরামর্শ

 অনিরুদ্ধার্যের পরামর্শ হল, পড়ুয়াদের যখন পড়াশোনা করার দরকার, কেরিয়ার গড়ার সময়, তখন যেন তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে। যুবক-যুবতীদের প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পড়াশোনা ও কর্মজীবন গড়ার বয়সে যুব সম্প্রদায়ের মনোযোগ অন্য দিকে যেতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি তাঁর কাছে আসা এক যুবকের উদাহরণও দেন। যুবকটি জানায়, অনিরুদ্ধাচার্যের কথা শোনার পর সে তার প্রেমের সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে, কারণ পড়াশোনা থেকে তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল।

অনিরুদ্ধাচার্যের বক্তব্য, এই ধরনের সম্পর্কে জড়ানোর আগে তরুণদের বোঝা উচিত, অপর ব্যক্তিটি সত্যিই তাদের ভালোবাসে নাকি কোনও স্বার্থের কারণে সঙ্গে আছে। তিনি তরুণদের পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্মজীবনে মনোনিবেশ করার জন্য আহ্বান জানান। তবে, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, তিনি স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের পক্ষে নন এবং কোনও বাইরের ব্যক্তিরও দাম্পত্য সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

Advertisement

বিয়ের আগে ও পরে চরিত্র পবিত্র রাখা উচিত

বিবাহ ও প্রেম সম্পর্ক প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধাচার্য বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের চরিত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর কথায়, 'বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর অতীত সম্পর্ক নিয়ে বিবাদ দেখা দিতে পারে, তাই তরুণ-তরুণীদের সম্পর্কের গুরুত্ব ও দায়িত্ব বোঝা উচিত।  তরুণ-তরুণীদের তাদের বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও মাথায় রাখা উচিত। বাবা-মা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করতে এবং ভবিষ্যৎ গড়তে পাঠান, তাই সন্তানদের উচিত নিজেদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনে মনোযোগ দেওয়া।' বিবাহ বহিভূর্ত সম্পর্ক বা পরকীয়া নিয়ে অনিরুদ্ধারার্যের কথায়, 'অন্য নারী বা পরস্ত্রীর দিকে ঝুঁকলে রাবণের মতোই অবস্থা হবে।'

যখন দুটি চাকাই ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, তখনই গাড়িটি সামনে এগোয়

তাঁর মতে, প্রেম ও বিয়ে সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে অনিরুদ্ধাচার্য বলেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান হিংসাকে কেবল নারী বা পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।  অতীতেও কিছু পুরুষ নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে এবং পণের নামে নারীদের পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটেছে।  অনিরুদ্ধাচার্যের মতে, সমাজে হিংসা ও নৃশংসতা প্রতিরোধ করতে হলে পিতামাতাকে তাঁদের পুত্র ও কন্যা উভয়ের মধ্যেই মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। নারীকে এবং কন্যাদেরকে পুরুষকে সম্মান করতে শেখাতে হবে। তিনি এটিকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, কেবল যখন দুটি চাকাই ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, তখনই গাড়িটি সামনে এগোয়। সমাজে নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকার, সম্মান এবং দায়িত্ব বোঝাও জরুরি।

অনিরুদ্ধাচার্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করে বলেন, এটি মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, আগে মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের জন্য কাউকে খুঁজে নিতে হত, কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের মতামত জানাতে পারে। 

মনুস্মৃতি ও রামচরিতমানস প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধাচার্য বলেছেন, যে কোনA গ্রন্থে যা কিছু ভাল পাওয়া যায় তা গ্রহণ করা উচিত এবং যা অনুপযুক্ত তা বর্জন করা উচিত। কবীরের একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে, অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের অন্তরে দৃষ্টিপাত করা উচিত। তাঁর মতে, যে কোনও সনাতন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ভুল নয়, কিন্তু কোনও ধর্মগ্রন্থ না পড়ে বা তার সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝে সেটিকে খারিজ করে দেওয়া ঠিক নয়।

POST A COMMENT
Advertisement