বকরি ইদের ছুটি কবে? মুসলিম সমাজের প্রধান দুটি উত্সবের অন্যতম হল এই বখরি ইদ। একে কুরবানির ইদও বলা হয়ে থাকে। হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২তম ও শেষ মাস ধুল হিজার দশমতম দিনে পালিত হয় ইদ-উল-আধা। আকাশে নতুন চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই উত্সব পালন করেন।
বখরি ইদ কবে?
এ বছর ভারতে ইদ-উল-আধা পালিত হবে ২৭ মে, বুধবার। সেদিনই সরকারি ছুটি। অর্থাৎ বন্ধ থাকবে সমস্ত স্কুল-কলেজ, অফিস।
ইদের কুরবানি
ইদের প্রার্থনার পরেই কুরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। কুরবানি দেওয়া পশুর মাংস ৩ ভাগে ভাগ করেন মুসলিমরা। একটা ভাগ গৃহস্থ নিজে রাখেন, অন্য একটি ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং তৃতীয় ভাগটি দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়।
বখরি ইদে ছাগল, উট বা অন্য কোনও পশুকে বলি দিয়ে সেই মাংস গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় কিছু উত্সর্গ করাই হল কুরবানির ইদের মূল বিষয়। বকরি ইদ পালনের মধ্যে দিয়েই শেষ হয় মুসলিম ধর্মের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হজযাত্রা।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কুরবানির প্রথা শুরু হয় হজরত ইব্রাহিমের সময়ে। কথিত আছে,পরীক্ষা করার জন্য হজরত ইব্রাহিমকে তার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস কুরবানি করতে বলেন আল্লাহ। এরপর তিনি তার একমাত্র পুত্রকে কুরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পুত্রকে কুরবানি দেওয়ার সময় যাতে সময় না হয়, সেই জন্য নিজের চোখ বেঁধে রাখেন তিনি। এরপর তিনি নিজের ছেলের কুরবানি দেন। কিন্তু চোখের পর্দা খোলার পর তিনি দেখতে পান, ছেলের পরিবর্তে একটি প্রাণী মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তাঁর ছেলে একদম ঠিক আছে। কথিত আছে, আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমের উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর পুত্রকে জীবন দিয়েছেন। এদিন থেকেই পালন করা শুরু হয় বকরি ইদ।