কবে করবেন সরস্বতী পুজো/নতুন বছরের শুরু যে উৎসব দিয়ে তা হল সরস্বতী পুজো। বাঙালির ঘরে ঘরে পূজিত হয়ে থাকেন বাগদেবী। পুরানে উল্লিখিত তিন দেবীর মধ্যে রয়েছেন দেবী সরস্বতীও। দেবী সরস্বতীকে জ্ঞান এবং বিদ্যার দেবী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এইদিন স্কুল-কলেজে জাঁক জমকের সঙ্গে পালন করা হয় এই পুজো। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় দেবী সরস্বতীর আরাধনা। সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি এই দিনটি বসন্ত পঞ্চমী হিসেবেও পালিত হয়। কারণ এই দিন থেকেই ঋতুরাজ বসন্তের আবির্ভাব ঘটে। এই বছর কবে পালিত হবে সরস্বতী পুজো? তা নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে অনেকের মনেই। দেখে নিন পঞ্জিকা অনুসারে কবে পড়েছে বসন্ত পঞ্চমী? দেবী সরস্বতীর আরাধনা করার সঠিক দিন কবে?
কবে পড়েছে সরস্বতী পুজো
মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় সরস্বতী পুজো। দৃকপঞ্জিকা অনুসারে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ২টো ২৯ মিনিটে পঞ্চমী পড়ছে। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত পঞ্চমী থাকবে। তারপর মাঘ শুক্লা ষষ্ঠী তিথি পড়ে যাচ্ছে। উদয়া তিথি অনুসারে ২৩ জানুয়ারি হলো বসন্ত পঞ্চমী। বেণীমাধব শীলের গার্হস্থ্য পঞ্জিকা অনুসারে ২২ জানুয়ারি রাত ১টা ৩৯ মিনিটে পঞ্চমী পড়ছে। ২৩ জানুয়ারি রাত ১২টা ২৯ মিনিটে পঞ্চমী ছাড়ছে। ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো করার নির্দেশ আছে পঞ্জিকায়।
বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য
এই দিনে মা সরস্বতীর পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, পেন এবং বাদ্যযন্ত্রের পুজো করারও রীতি প্রচলিত আছে। অনেক বাড়িতে শিশুদের হাতেখড়ির অনুষ্ঠান করা হয় এ দিন। মা সরস্বতীকে সাক্ষী রেখে ও তাঁর কৃপা প্রার্থনা করে ছোটদের আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম বিদ্যাচর্চা শুরু হয় এই দিন থেকে। বসন্ত পঞ্চমী থেকে শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়।
পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্র
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচরসারে, কুচযুগ-শোভিত মুক্তাহারে। বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।।
নমঃ সরস্বত্যৈ নমো নমঃ নিতাং ভদ্রকাল্যৈ নমো নমঃ। বেদ-বেদাঙ্গ- বেদান্ত- বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ।। এষ সচন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বত্যৈ নমঃ।।-এই মন্ত্রে তিনবার অঞ্জলি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সরস্বতী পুজোর প্রণাম মন্ত্র
নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল-লোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।। জয় জয় দেবী চরাচরসারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণারঞ্জিত পুস্তক হাস্ত, ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।।