চাণক্য নীতি হিংসুটে আত্মীয়রা প্রায়শই গুপ্তচরের মতো আচরণ করে। আপনার জীবন সম্পর্কে তাঁদের কৌতুহলের শেষ নেই। তাঁরা জানতে চায়, 'কেমন আছো? কী চলছে?' কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তাঁরা সবসময় আপনার কথা ভাবছে। কখনও কখনও তাঁরা শুধু জানতে চায় আপনার জীবনে কী ঘটছে। আপনি কত আয় করেন, বাড়িতে কী সমস্যা, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া গয়েছে কি না, ছেলেমেয়েরা কত নম্বর পেয়েছে পরীক্ষায়, এই সব। আপনারা প্রায়শই কিছু না ভেবেই আত্মীয়দের সবকিছু বলে দিই।
এখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়। আপনি তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন এবং পরে তাঁরা সেই একই জিনিসগুলি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। কখনও তাঁরা আপনার পিছনে কথা বলবে আবার কখনও এই একই জিনিসগুলি ব্যবহার করে আপনাকে জনসমক্ষে অপমান করবে।
চাণক্য নীতি অনুসারে, কঠিন সময়ে সতর্ক থাকা উচিত। কখনও কখনও সমস্যা বাইরের কারও কাছ থেকে নয়, বরং নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেই আসতে পারেয কিছু আত্মীয় আপনার শক্তির চেয়ে দুর্বলতাগুলিই বেশি দেখে। একই ভাবে কিছু লোক আপনার অনেক সাফল্যকে উপেক্ষা করে কেবল একটি দুর্বলতার উপরই মনোযোগ দেয়। আপনি ভাল উপার্জন করুন, নতুন গাড়ি কিনুন, বড় বাড়ি বানান বা জীবনে এগিয়ে যান, তবুও কিছু লোক আপনার সুখ পছন্দ করে না। তাঁরা আপনার সাফল্যেও দোষ খুঁজে বেড়ায়।
সুতরাং প্রথমে এটা বোঝা জরুরি, সবার হিংসা আপনার দোষ নয়। যদি কেউ আপনার উন্নতিতে অখুশি হয় বা আপনার প্রতিটি সাফল্যে দোষ খুঁদে বেড়ায়, তবে তাঁদের এই চিন্তাভাবনার জন্য নিজেকে দোষারোপ করার কোনও প্রয়োজন নেই।
প্রতিক্রিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ
চাণক্য নীতি অনুসারে, যিনি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনিই প্রকৃত শক্তিশালী। উদাহরণস্বরূপ, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে আছে এবং একজন আত্মীয় বললেন, 'শুনলাম তোমার চাকরি চলে গিয়েছে।' অথবা 'তুমি বিয়ে করছো না কেন?' রাগ হলেও শান্ত থাকুন, হেসে অন্য কথা বলুন বা এড়িয়ে চলুন। নীরবতাই শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া।
তথ্য গোপন রাখুন
হিংসুটে আত্মীয়রা প্রায়ই আপনার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানতে চান। যেমন, 'আপনি কত রোজগার করেন?' 'বাড়িতে সব কিছু ঠিকঠাক আছে তো?' আবেগের বসে সব কিছু না বলে শুধু বলুন, 'সব কিছু ভালই চলছে।'
অযথা তর্ক করবেন না
যদি কোনও আত্মীয় বলেন, 'তুমি এইটুকু কাজ করতে পারো না?' তর্কের সম্ভাবনা থাকলেও কখনও কখনও চুপ থাকাই সবচেয়ে বিচক্ষণের কাজ।
নম্র ব্যবহারই শক্তি
চাণক্য নীতি অনুসারে, জনসমক্ষে কেউ আপনাকে অপমান করলে সঙ্গে সঙ্গে রেগে না গিয়ে শান্ত থাকুন।
প্রয়োজনে সাড়া দিন
যদি কেউ আপনার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবে বারবার সীমা লঙ্ঘন করে, তবে শান্ত ভাবে কিছু স্পষ্ট উত্তর দিন। যদি কেউ বারবার আপনার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেন, তবে বলুন, 'আমার ব্যক্তিগত জীবন আমার এবং আমার পরিবারের ব্যাপার। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।'