Chanakya Niti: ভাল মানুষ কে? আচার্য চাণক্যের মতে সঠিক সংজ্ঞাটি জেনে নিন

Acharaya Chanakya Niti: চাণক্য নীতি হল প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিত চাণক্য রচিত নীতিশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা জীবনের জন্য ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। চাণক্য, যিনি কৌটিল্য নামেও পরিচিত ছিলেন, তিনি ছিলেন মৌর্য সাম্রাজ্যের একজন মহান গুরু এবং রণকৌশলী।

Advertisement
ভাল মানুষ কে? আচার্য চাণক্যের মতে সঠিক সংজ্ঞাটি জেনে নিনআচার্য চাণক্য

চাণক্য নীতি হল একটি প্রাচীন গ্রন্থ, যা মহান পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ আচার্য চাণক্য (যিনি কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামেও পরিচিত) রচনা করেছিলেন। একটি সুস্থ জীবন যাপন, সাফল্য অর্জন এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এটি বহু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এই গ্রন্থটি আচরণ, নীতিশাস্ত্র, রাজনীতি, অর্থসম্পদ, সম্পর্ক এবং জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এতে এমন সব সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

আচার্য চাণক্য তাঁর চাণক্য নীতিতে এ বিষয়েও আলোচনা করেছেন যে, একজন ভাল মানুষকে এবং কী গুণাবলি একজন মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। জেনে নিন, একজন ভাল মানুষের মধ্যে কী কী গুণ থাকা উচিত।

শাস্ত্রবিধি মেনে যে কেউ এই বৈদিক সাহিত্যটি অধ্যয়ন করবেন, তিনি একজন মহান ব্যক্তিতে পরিণত হবেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, ধর্ম বা নীতিশাস্ত্রের মূল শিক্ষাগুলোই হল—ভাল ও মন্দের বিচার।

আচার্য চাণক্যের মতে, কেবল তারাই প্রকৃত অর্থে মহান, যারা নীতিশাস্ত্র বিষয়ক এই গ্রন্থটি পাঠ করেন। বস্তুত, নীতিশাস্ত্রের এই গ্রন্থটি একজন ব্যক্তিকে ধর্ম, কর্তব্য এবং সঠিক ও ভুলের বিষয়ে সঠিক বোধশক্তি প্রদান করে। শুধুমাত্র তারাই প্রকৃত অর্থে মহান হিসেবে গণ্য হন, যারা এই গ্রন্থটি পাঠ করেন এবং এর মর্মার্থ সঠিকভাবে অনুধাবন করেন।

নীতিশাস্ত্রের এই আচরণবিধিটি এও ব্যাখ্যা করে যে, কোন কাজগুলো করা উচিত এবং কোনগুলো করা উচিত নয়। এটি সঠিক ও ভুলের বিষয়েও সুস্পষ্ট জ্ঞান প্রদান করে। যে ব্যক্তি এই নীতিগুলো অনুধাবন করেন এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হন।

আচার্য বিষ্ণুগুপ্ত (চাণক্য)-এর মতে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তি নীতিশাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমেই বুঝতে পারেন যে, কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল। তারা নিজেদের কর্মের ভাল ও মন্দ পরিণাম সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করেন। এই জ্ঞান অর্জনের ফলে কর্তব্য সম্পর্কে যে বোধশক্তি ও দূরদৃষ্টি জাগ্রত হয়, সেটাই হলো ধর্মের মূল উদ্দেশ্য। নিজের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করাই হলো মানুষের ধর্ম বা কর্তব্য। প্রতিটি ব্যক্তি ও বস্তুরই নিজস্ব প্রকৃতি বা স্বভাব রয়েছে; ঠিক যেমন আগুনের স্বভাব হলো দহন করা এবং জলের স্বভাব হলো নির্বাপিত করা। একইভাবে রাজনীতির ক্ষেত্রেও, কিছু কাজ ধর্মের অনুসারী বা ধর্মসম্মত হিসেবে গণ্য হয়, আবার কিছু কাজ ধর্মের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।

Advertisement

আচার্য চাণক্য আরও উল্লেখ করেছেন যে, 'গীতা' গ্রন্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে 'ক্ষত্রিয় ধর্ম' সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হলে একজন ক্ষত্রিয়ের কর্তব্য হল যুদ্ধ করা। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা কিংবা পিছু হটে আসা কাপুরুষতা হিসেবে গণ্য হয়। ঠিক এভাবেই একজন ব্যক্তির উচিত নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক বোধশক্তি অর্জন করা।

 

POST A COMMENT
Advertisement