ভূত চতুর্দশী ২০২৬ভূতচতুর্দশী হিন্দুদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন অনেকের কাছেই নরকচতুর্দশী নামেও পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্র মতে এই দিন অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আর সেই কারণেই এই দিন হিন্দুরা বিশেষ করে বাঙালিরা এই দিন বাড়িতে ১৪ প্রদীপ জ্বালায়। ১৪ শাক খায়। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী এই দিন অশুভশক্তির বিনাসের জন্যই দেবী কালিকা চামুণ্ডা রূপে নেমে আসেন মর্তে। তাঁরই সঙ্গে আসেন ভূত আর প্রেতাত্মারা। অনেকেই বলেন, এই বিশেষ দিনে দৈত্যরাজ বলি পৃথিবীতে আসেন পুজো নিতেন। যদিও দৈত্যরাজ হলেও বলির অনেক ভক্ত রয়েছে।
১৪ প্রদীপের আলো সংসারে অশুভ কর্মশক্তির অবসান ঘটিয়ে শুভ কর্মশক্তি প্রদান করে। এই তিথিতে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১৪ ধরনের শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে। আসুন জেনে নিন কবে পড়েছে এই ভূত চতুর্দশী।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে
চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে বাংলা ক্যালেন্ডারের ২১ কার্তিক, শনিবার, ইংরাজি ক্যালেন্ডারের ৭ নভেম্বর, শনিবার। সময় শুরু সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে আর শেষ হবে ২২ কার্তিক, রবিবার, ইংরাজি ৮ নভেম্বর, রবিবার, সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে
চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে বাংলা ক্যালেন্ডারের ২১ কার্তিক, শনিবার, ইংরাজি ক্যালেন্ডারের ৭ নভেম্বর, শনিবার। সময় শুরু সকাল ১০টা ৩৮ মিনি ৩৩ সেকেন্ড থেকে আর শেষ হবে ২২ কার্তিক, রবিবার, ইংরাজি ৮ নভেম্বর, রবিবার, সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে।
১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভূতচতুর্দশীর দিন ১৪ শাক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই ১৪টি শাক হল ওল শাক, কেঁউ শাক, বেতো শাক (বাস্তুক), কালকাসুন্দে শাক, সর্ষে শাক, জয়ন্তী শাক, শালিঞ্চে শাক (হেলঞ্চে), গুলঞ্চ শাক, পলতা শাক (পটল পাতা), শুলফা শাক, ঘেঁটু শাক, শুষনি শাক, মূল শাক (মূলোর পাতা), ব্রাহ্মী শাক। অনেক জায়গায় নিম শাকও ব্যবহার করা হয়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পেটের নানা সমস্যা দূর করার জন্যই মূলত এই ঐতিহ্যবাহী শাকগুলি একত্রে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম
১৪ প্রদীপের আলোয় বাড়ি আর কর্মক্ষেত্র থেকে অশুভ শক্তি দূর হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এই সময় মাটির প্রদীপে সরর্ষের তেলে প্রদীপ জ্বালতে হয়। প্রদীপের শিখা থাকবে উত্তরমুখী।