প্রতীকী ছবি মৃত্যু এমন একটি বাস্তবতা যা থেকে কেউ পালাতে পারে না। এটি একটি পরম সত্য যে, এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেককেই একদিন ইহলোক ছেড়ে চলে যেতে হবে। হিন্দুধর্মের আঠারোটি মহাপুরাণের মধ্যে গরুড় পুরাণের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। এই গ্রন্থে জীবন, কর্ম এবং মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা সম্পর্কিত অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গরুড় পুরাণ অনুসারে, মৃত্যু হঠাৎ আসে না, বরং তার আগে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো দেখে অনুমান করা যায় যে, একজন ব্যক্তির অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে। গরুড় পুরাণে বর্ণিত এমন কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিন।
মৃত্যুর আগে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়
ছায়া অদৃশ্য হয়ে যাওয়া
গরুড় পুরাণ অনুসারে, যখন কোনও ব্যক্তি নিজের ছায়া দেখতে পায় না, তখন এটিকে একটি অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে জীবনের শেষ ঘনিয়ে আসতে পারে।
স্বপ্নে পূর্বপুরুষদের দেখা
এছাড়াও, যদি কোনও ব্যক্তি স্বপ্নে তার পূর্বপুরুষদের দেখেন এবং তারা তাকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য ডাকতে থাকেন, তবে এটিও আসন্ন মৃত্যুর একটি লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
মৃত্যুর দূতদের আবির্ভাব
শাস্ত্র আরও বলে যে, জীবনের শেষ সময়ে একজন ব্যক্তি যমদূতদের (মৃত্যুর দূত) দর্শন পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে, তার মনে হয় যেন কেউ তাকে নিয়ে যেতে আসছে। এই অভিজ্ঞতাটি প্রায়শই রাতে বেশি ঘটে এবং ব্যক্তিটি তার চারপাশে নেতিবাচক শক্তি অনুভব করতে শুরু করে।
ভাল-মন্দ কাজের স্মৃতিচারণ
গরুড় পুরাণ অনুসারে, যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন একজন ব্যক্তি তার জীবনের ভাল-মন্দ কাজগুলো স্পষ্টভাবে মনে করতে শুরু করে। যদি কেউ তার কাজগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠতে দেখে, তবে এটি অন্তিম মুহূর্তের একটি লক্ষণ হতে পারে।
হাতের রেখা হালকা হয়ে যাওয়া
এছাড়াও, মৃত্যু ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একজন ব্যক্তির হাতের রেখাগুলো হালকা হতে শুরু করে। কিছু ক্ষেত্রে, হাতের তালুর রেখাগুলো অস্পষ্টও হয়ে যেতে পারে।
গরুড় পুরাণ কখন এবং কেন পাঠ করা হয়?
গরুড় পুরাণ অনুসারে, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের গরুড় পুরাণ পাঠ করা উচিত। বিশ্বাস করা হয় যে এই পাঠ মৃত আত্মার শান্তি এনে দেয় এবং তাকে মোক্ষ লাভে সহায়তা করে। এটি বাড়ি থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। এই কারণে, মৃত্যুর পর গরুড় পুরাণ পাঠ করাকে ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।