হিন্দু বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই পুজো করা হয়। পুজোয় ধূপকাঠি (Incense Sticks) জ্বালানোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ধূপকাঠি জ্বালালে বাড়িতে ইতিবাচকতা আসে এবং ঈশ্বরও খুশি হন। সাধারণত পুজোর সময় প্রতিটি বাড়িতে ধূপকাঠি জ্বালানো হয়। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বিশেষ করে সপ্তাহের দু'দিন ধূপকাঠি জ্বালানো অশুভ বলে মনে করা হয়। হ্যাঁ, ভুল করেও সপ্তাহের মঙ্গলবার ও রবিবার বাড়িতে ধূপকাঠি জ্বালাবেন না। এতে করে গৃহে দরিদ্রতা দেখা দিতে পারে এবং পিতৃদোষও হতে পারে।
কারণ কী
আসলে ধূপকাঠি তৈরিতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র এবং হিন্দু ধর্মে বাঁশকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ইতিবাচকতার জন্য, লোকেরা তাঁদের দোকান, বাড়ি এবং অফিস ইত্যাদিতে লাকি বাঁশগাছ রাখে। সপ্তাহের মঙ্গল ও রবিবার বাঁশ পোড়ানোর জন্যও শাস্ত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই এই দুই দিনে ধূপকাঠিও জ্বালাবেন না।
বাস্তুশাস্ত্রের পাশাপাশি ফেং শুইতে বাঁশ পোড়ানোও অশুভ বলে মনে করা হয়। এটি ভাগ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এটি দারিদ্র্যের কারণ হয়। এছাড়াও, যে বাড়িতে বাঁশ পোড়ানো হয় সেখানে নেতিবাচকতা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, মঙ্গলবার বা রবিবার যদি আপনি ধূপকাঠি জ্বালান, তবে তা বাড়ির শান্তিও নষ্ট করে।
বাঁশ পোড়ালে পিত্রদোষ হতে পারে
বাঁশকে বংশের প্রতীক মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে বাঁশ পোড়ালে বংশের ক্ষতি হয়। এই কারণেই হিন্দুধর্মে, যখন কারও মৃত্যুর পরে দাহ করার জন্য বাঁশ দিয়ে খাট তৈরি করা হয়, তখন চিতা জ্বালানোর আগে বাঁশের খাটটি সরিয়ে ফেলা হয়। কারণ বাঁশ পোড়ানোর ফলে পিতৃ দোষ হয়।
সমাধান কী
হিন্দু ধর্মে পুজোর সময় অবশ্যই ধূপ বাতি ব্যবহার করা হয়। এটি ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। ধূপকাঠির পরিবর্তে প্রদীপ, কর্পূর ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে কোনও দোষ নেই।