এবার দু'দিন সপ্তমী কেন?আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন, তারপরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব, দুর্গাপুজো। পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেলেই সবার নজর থাকে কবে মহাষষ্ঠী, কখন নবপত্রিকা প্রবেশ, অষ্টমীর সন্ধিপুজোই বা কখন? শুধু তাই নয় এবারের দুর্গা পুজোয় রয়েছে ছুটির বোনাস আর ডবল আনন্দ, কারণ আরও একদিন বেশি রয়েছে পুজো। কারণ, ২০২৬ -এ দুর্গাপূজা পাঁচ দিনের নয়, ৬ দিনের। সপ্তমী তিথি রয়েছে দু'দিন। ফলে পুজোর দিন গোনার পাশাপাশি সবার নজর রয়েছে পঞ্জিকার পাতায়।
বাঙালির (ঘরে উমা এসে এবার আরও একদিন বেশি থাকবেন তার পিতৃগৃহে। আগামী ২০২৬ সালের শারদোৎসবে উমা মর্ত্যে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, আর বিদায় নেবেন নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় দেবীর ঘোটকে আগমন কিছুটা অস্থিরতার বার্তা দিলেও, নৌকায় গমন ধরা হয় অত্যন্ত শুভ—যা দেশের শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রাচীন ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত—এই দুই পঞ্জিকার সময়সূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল। বিশেষ করে কোন তিথিতে কখন সন্ধিপুজোর পুষ্পাঞ্জলি দেবেন কিংবা ষষ্ঠী-সপ্তমীর পুজোর সময় কোনটা, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকায় পার্থক্য
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, চলতি বছর শ্রীশ্রী দুর্গা দেবীর গজে আগমন এবং নৌকায় গমন। গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা মতে দেবীর ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন। একই বছরে এই পার্থক্যের কারণ কী? দেবী দুর্গার আগমন এবং গমন নির্ভরশীল প্রকৃতির উপর। দেবী দুর্গা সাধারণত গজ, ঘোটক, নৌকা এবং দোলা— এই চার প্রকার বাহনেই আগমন এবং গমন করেন। শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গার আগমন এবং গমন নির্ভর করে সপ্তমী এবং দশমী তিথি কোন বার তার উপর।
শাস্ত্রমতে, দোলা, অর্থাৎ পালকিতে আগমন বা গমনের ফল ‘দোলায়াং মকরং ভবেৎ’, অর্থাৎ মহামারী বা মড়কতুল্য বিষয়ে ভোগার আশঙ্কা। ঘোটকে, অর্থাৎ ঘোড়ায় আগমন বা গমনের ফল ‘ছত্রভংস্তুরঙ্গমে’ অর্থাৎ ছত্রভঙ্গ, ধ্বংস বা ছন্নছাড়া বা ধ্বংসাত্মক লীলার আশঙ্কা।নৌকার অর্থ বোঝায় বন্যা বা জলমগ্ন। তবে নৌকায় আগমন বা গমনের ফলস্বরূপ শস্যপূর্ণ বসুন্ধরাও বোঝানো হয়। কারণ, বন্যা বা জলমগ্ন হলে জলের অভাব বা আকাল না থাকা এবং প্লাবনের পরবর্তী কালে পলিপূর্ণ ভূমিতে ফসলের ফলন বৃদ্ধি ঘটে। গজ অর্থাৎ হস্তী বা হাতি দ্বারা সমৃদ্ধি বা শুভ নির্দেশ করে। ফল ‘গজে চ জলদা দেবী’, শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।
দুর্গাপুজো ২০২৬ - এক নজরে প্রধান দিনগুলি
কেন দু'দিন সপ্তমী?
এই বছর তিথির অঙ্কে সপ্তমী অনেক লম্বা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে সপ্তমী শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর ভোর ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ১৮ অক্টোবর সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে। তাই সপ্তমীর নবপত্রিকা স্নান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই মতে দুই রকম দিন। গুপ্ত প্রেস, পি এম বাগচী, বেনীমাধব শীল-এর পঞ্জিকা অনুযায়ী নবপত্রিকা স্নান ১৭ অক্টোবর শনিবার, আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর রবিবার সকালে। পুজো উদ্যোক্তারা যে পঞ্জিকা মানেন, সেই অনুযায়ী করবেন। পাশাপাশি, পঞ্জিকাভেদে তিথি শুরুর সময়ের পার্থক্যের জন্য দেবীর আগমনও ভিন্ন হয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা
সপ্তমী তিথি আরম্ভ: ৩০ আশ্বিন, ১৭ অক্টোবর, শনিবার, ভোর ৫টা ৫৬ মিনিট।
সপ্তমী তিথি শেষ: ১ কার্তিক, ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিট। অর্থাৎ, সূর্যোদয় কালে প্রাপ্ত তিথি অনুযায়ী সপ্তমী রবিবার।
দশমী তিথি আরম্ভ: ৩ কার্তিক, ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার, দুপুর ১২টা ৫২ মিনিট।
দশমী তিথি শেষ: ৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, বুধবার, দুপুর ২টো ১২ মিনিট। অর্থাৎ, সূর্যোদয়কালে প্রাপ্ত তিথি অনুযায়ী দশমী বুধবার।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা
সপ্তমী তিথি আরম্ভ: ২৮ আশ্বিন, ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার, রাত ৩টে ৪৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
২৯ আশ্বিন, ১৭ অক্টোবর, শনিবার অহোরাত্র সপ্তমী তিথি। অর্থাৎ, সূর্যোদয়কালে প্রাপ্ত তিথি অনুযায়ী সপ্তমী শনিবার।
দশমী তিথি আরম্ভ: ২ কার্তিক, ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড।
দশমী তিথি শেষ: ৩ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, বুধবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। অর্থাৎ, সূর্যোদয়কালে প্রাপ্ত তিথি অনুযায়ী দশমী বুধবার।