Belur Math Kumari Puja 2026: মহাষ্টমীতে প্রথা মেনেই বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, সুভাগা রূপে পূজিত হলেন কন্যা, চেনেন এই মেয়েকে?

নবরাত্রির অষ্টমী তিথি পড়েছে সোমবার ৷ এদিন প্রতি বছরের মতো দুর্গাপুজোর অঙ্গ হিসাবে বেলুড় মঠে হল কুমারী পুজো ৷ সোমবার সকাল থেকেই পুজো দেখতে মঠ চত্বরে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।

Advertisement
মহাষ্টমীতে প্রথা মেনেই বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, সুভাগা রূপে পূজিত হলেন কন্যা, চেনেন এই মেয়েকে? রীতি মেনে সম্পন্ন কুমারী পুজো

নবরাত্রির অষ্টমী তিথি পড়েছে সোমবার ৷ এদিন প্রতি বছরের মতো দুর্গাপুজোর অঙ্গ হিসাবে বেলুড় মঠে হল কুমারী পুজো ৷ সোমবার সকাল থেকেই পুজো দেখতে মঠ চত্বরে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।

এদিন ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে বেলুড় মঠে শুরু হয় অষ্টমী পুজো। ইতিহাস, ঐতিহ্য মেনে বেলুড় মঠে আজ  কুমারী পুজো হয়। দেবীকে মৃন্ময়ী রূপে আরাধনার পাশাপাশি কুমারীর মধ্যে মাতৃরূপ দর্শন, এই প্রথা মেনেই প্রতিবারের মতো এবারও বেলুড় মঠে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল ৷ ১৯০১ সালে মা সারদার উপস্থিতিতে শঙ্খ, বাদ্য, অর্ঘ, বলয় ও বস্ত্রাদি সহযোগে ৯ জন কুমারীকে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ৷ সেই থেকেই চলে আসছে এই প্রথা৷

 

এবারের কুমারী কে?
এ বছর বেলুড় মঠে কুমারী হিসেবে পুজো করা হয় হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা দেবাদৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার বয়স পাঁচ বছর ন’মাস একুশ দিন। তাকে সুভাগা রূপে পুজো করা হয়।

১৯০১ সালে বেলুড়ে প্রথম পুজো
 বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর সূচনা হয় ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে ৷ দুর্গাপুজো, সঙ্কল্প কিংবা কুমারী পুজো— এসব কেবল গৃহস্থদের আচার ৷ কিন্তু স্বামীজি প্রথা ভেঙে ঘোষণা করেছিলেন, 'মানুষের সেবাই ঈশ্বরসেবা' ৷ সেই ভাবনা থেকে বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর প্রবর্তন ৷ রামকৃষ্ণ মঠে প্রথম বার দুর্গাপুজো হয়েছিল শ্রীমা সারদা দেবীর উপস্থিতিতে ৷ সঙ্কল্প হয়েছিল তাঁর নামেই ৷ সেই তখন থেকে স্বামীজি কুমারী পুজোর প্রচলন করেন— শিশুকন্যাদের পায়ে পুষ্পাঞ্জলি, মিষ্টি ও দক্ষিণা নিবেদন করেন ৷ এখনও সেই প্রথা অটুট ৷

এই পুজোর আরেক বিস্ময় ভোগ ৷ পুজোর প্রতিদিন দশ থালা ভোগ নিবেদন হয়— তার আটটি আমিষ এবং দু'টি নিরামিষ ৷ মা দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, নবপত্রিকা, মহিষাসুর, মহাসিংহ, আর সহচরী দেবী লক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতীকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয় ৷ নারায়ণ ও শিবের জন্য থাকে নিরামিষ ৷

Advertisement

কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠেও কুমারী পুজো
অষ্টমীর তিথিতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের রীতি মেনে কুমারী পুজো হল কামারপুকুর মঠেও । পাঁচ বছর বয়স থেকে ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত নাবালিকা কন্যার কুমারী পুজো হয়ে থাকে ৷ 

 কুমারী পুজোর মাহাত্ম্য
বয়স ভেদে কুমারীরা ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের কথা অনুসারে, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতী প্রকাশ পান। কুমারী পুজোর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।  প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে কুমারীপুজো ছাড়া হোম-যজ্ঞ করেও দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। দেবী পুরাণে কুমারী পুজোর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে দেবী হিসেবে পুজোর নির্দেশ রয়েছে। ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকে পুজো করা যেতে পারে। অনেক জায়গায় দুর্গাপুজোর অষ্টমী বা নবমী তিথিতে কুমারী পুজো করা হয়ে থাকে। বেলুড় মাঠে অত্যন্ত ধূমধামের সঙ্গে প্রতি বছর কুমারী পুজো হয়। কুমারীপুজোর আগে সাধক কুমারীকে নতুন বস্ত্র, ফুলের মালা ও মুকুটে সাজান। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর ও তিলক সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তোলেন।

POST A COMMENT
Advertisement