বাড়ির পুজোর জন্য যে গণেশের মূর্তি শুভ, দোকান বা ব্যবসার জায়গার জন্যও কি একই মূর্তি রাখা উচিত?Ganesh Idol Vastu: গণেশের মূর্তি কিনতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। কারও প্রশ্ন, গণেশের শুঁড় ডান দিকে থাকবে, না বাঁ দিকে? আবার কেউ জানতে চান, একটি দাঁত ভাঙা থাকলে সেই মূর্তি কি বাড়িতে রাখা যায়? বাড়ির পুজোর জন্য যে গণেশের মূর্তি শুভ, দোকান বা ব্যবসার জায়গার জন্যও কি একই মূর্তি রাখা উচিত?
গণেশ চতুর্থীর সময় এই প্রশ্নগুলি আরও বেশি করে মাথায় আসে। বাস্তুশাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে গণেশের মূর্তির কিছু বিশেষ রূপকে শুভ বলে মনে করা হয়। তবে এগুলি বিশ্বাসের বিষয়। পরিবারের রীতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বাড়িতে কোন গণেশের মূর্তি রাখবেন?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির পুজোর জন্য বসা অবস্থায় গণেশের মূর্তি রাখা ভাল। এই ধরনের গণেশকে শান্তি, স্থিরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালের গণেশ পুজো উপলক্ষে প্রকাশিত বাস্তু-সংক্রান্ত পরামর্শেও বাড়ির জন্য বসা গণেশের মূর্তিকে শুভ বলা হয়েছে।
মূর্তির শুঁড় নিয়েও রয়েছে বিশেষ বিশ্বাস। সাধারণত বাঁ দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশ বাড়িতে রাখাকে শুভ মনে করা হয়। এই রূপকে বলা হয় বামমুখী গণেশ। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রূপের পুজো তুলনামূলক ভাবে সহজ এবং সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
তবে এর মানে এই নয় যে ডান দিকে শুঁড় থাকা গণেশ অশুভ। ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বা দক্ষিণমুখী গণেশ বলা হয়। এই রূপকে শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়ম মানার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির সাধারণ পুজোর জন্য অনেকেই বাঁ দিকে শুঁড় থাকা গণেশ বেছে নেন।
দাঁত ভাঙা গণেশ কি রাখা যায়?
গণেশের মূর্তিতে একটি দাঁত ভাঙা দেখা যায় অনেক সময়। এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। গণেশের একদন্ত রূপ হিন্দু ধর্মীয় প্রতিমাশাস্ত্রে বহুল পরিচিত। বিভিন্ন প্রচলিত গণেশ মূর্তিতে ভাঙা দাঁত দেখা যায়। এমন মূর্তিকে শুধু দাঁত ভাঙা থাকার কারণে অশুভ বলা ঠিক নয়।
তবে মূর্তিটি যেন ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত ভাবে একদন্ত গণেশের মূর্তি এবং দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়া মূর্তি এক বিষয় নয়। বাস্তু-সংক্রান্ত প্রচলিত পরামর্শে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙা মূর্তি না কেনার কথা বলা হয়।
দোকান বা ব্যবসার জায়গায় কোন গণেশ?
দোকান, অফিস বা ব্যবসার জায়গায় গণেশের মূর্তি রাখার ক্ষেত্রেও অনেকেই বাস্তু মেনে চলেন। সেখানে সাধারণত বসা গণেশের মূর্তি পছন্দ করা হয়। শুঁড় বাঁ দিকে থাকা মূর্তিও রাখতে পারেন।
মূর্তির মুখ কোন দিকে থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বাস্তু মতে, গণেশের মুখ উত্তর বা পূর্ব দিকে রাখা শুভ। তবে মূর্তি রাখার জায়গায় যেন নিয়মিত পরিষ্কার করা যায় এবং পুজো করার সময় সহজে বসা যায়, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।
গণেশের সঙ্গে ইঁদুর থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গণেশের বাহন হল ইঁদুর বা মূষক। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে মূষকের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও অনেকে দেখে নেন। প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গণেশের সঙ্গে তাঁর বাহন মূষকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
মূর্তিতে চারটি হাত থাকাও প্রচলিত রূপের একটি বৈশিষ্ট্য। অনেক মূর্তিতে পাশ, অঙ্কুশ, মোদক এবং অভয় মুদ্রা দেখা যায়। এগুলির প্রত্যেকটির আলাদা ধর্মীয় প্রতীকী অর্থ রয়েছে।
সব শেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। গণেশের মূর্তি কোন দিকে তাকিয়ে থাকবে বা শুঁড় কোন দিকে থাকবে; এ নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পরিবারের রীতি আলাদা হতে পারে। তাই শুধুমাত্র বাস্তু-নিয়মের কথা শুনে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের পরিবারের প্রচলিত রীতি এবং বিশ্বাস মেনে গণেশের পুজো করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।