মৃত্যুর পর আত্মা কি ১৩ দিন সত্যিই বাড়িতে থাকে? গরুড় পুরাণ হিন্দুধর্মের ১৮টি মহাপুরাণের মধ্যে অন্যতম। ভগবান বিষ্ণু এবং তাঁর বাহন গরুড়ের মধ্যে কথোপকথনের আকারে রচিত এই পুরাণে জীবন, মৃত্যু, কর্ম এবং পরকাল সম্পর্কিত গভীর বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণত কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর গরুড় পুরাণ পাঠ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই পুরাণ পাঠ মৃতের আত্মাকে শান্তি এনে দেয়। পাশাপাশি মৃতের পরিবারকে ধর্ম ও জীবনের সত্যগুলি উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয়।
গরুড় পুরাণে মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। মৃত্যুকে জীবনের সবচেয়ে অনিবার্য সত্যি বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, দেহের মৃত্যুর পরেও আত্মার অস্তিত্ব থাকে এবং সে একটি পৃথক যাত্রা শুরু করে। গরুড় পুরাণ এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে। বিশ্বাস করা হয় যে, মৃত্যুর পর আত্মা সঙ্গে সঙ্গে দেহত্যাগ করে না, বরং কিছু সময়ের জন্য একটি বিশেষ অবস্থায় থাকে। প্রথম ১৩ দিনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই সময়ে পালিত আচার-অনুষ্ঠান আত্মার যাত্রাকে সহজ বা কঠিন করে তুলতে পারে।
১৩তম দিনটির গুরত্ব কী?
গরুড় পুরাণ অনুসারে, ১৩ তম দিনের অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ এটি আত্মার পরবর্তী যাত্রার পথ প্রশস্ত করে। অনেক বিশ্বাস অনুসারে, ১৩ দিনের আগে পর্যন্ত আত্মা তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং তাদের কার্যকলাপ ও অনুভূতি দ্বারা প্রভাবিত হয়।
কিন্তু ১৩ তম দিনে অনুষ্ঠানটি আত্মাকে পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্তি দেয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনের আচার-অনুষ্ঠানের পর আত্মা তার পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয় এবং এই জগতকে চূড়ান্ত বিদায় জানায়।
গরুড় পুরাণ অনুসারে, যখন কোনও ব্যক্তি মারা যায়, তখন তার আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক নতুন যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ে, আত্মাকে তার কর্মের ভিত্তিতে স্থানান্তরিত করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, যমদূতরা আত্মাকে যমলোকে নিয়ে যায়, যেখানে আত্মার সারাজীবনের ভালো ও মন্দ কর্মের হিসাব নেওয়া হয়। কিছু বিশ্বাস এও বলে যে, আত্মাকে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মুহূর্তগুলো প্রত্যক্ষ করার জন্য অল্প সময়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
কেন ১৩ দিনকে বিশেষ দিন হিসেবে ধরা হয়?
গরুড় পুরাণ অনুসারে, মৃত্যুর পরের প্রথম তেরোটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয় যে এই সময়ে আত্মা তার ঘর ও পরিবারের কাছাকাছি থাকে। সে তার প্রিয়জনদের আবেগ অনুভব করতে পারে, কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। এই সময়ে আত্মা এক ধরনের আসক্তি ও টানে আবদ্ধ থাকে এবং ধীরে ধীরে এই জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।
পিণ্ডদান কেন করা হয়?
ধর্মগ্রন্থে পিণ্ডদানের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, দীর্ঘ যাত্রার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, তেমনি এই প্রথাটি আত্মাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়। এটিকে পরকালে আত্মার যাত্রাকে কিছুটা সহজ করার একটি ধর্মীয় প্রচেষ্টা বলে মনে করা হয়।